সিলেটে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

সিলেটে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সিলেট নগরীর চৌকিদেকির ব্রিটানিয়া সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষের মৃত্যু হয়েছে। সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সুইমিং পুলে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে নগরের দরগা গেইট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎকরা মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দীপাঞ্জন ঘোষ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি গ্রামের কৃষ্ণ ঘোষের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ব্রিটানিয়া সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছিলেন দীপাঞ্জন। একপর্যায়ে সবার অজান্তে সে সুইমিং পুলের প্রায় ৯ ফুট গভীর অংশে চলে যায়। সেখানে সে পানিতে ডুবে যায়।

নিহতের সহপাঠী ফায়াজ নবী জানান, আমরা তিন বন্ধু নিয়মিতই সেখানে সাঁতার কাটতে যেতাম। আজকে প্রিয়মও আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য বলে এবং আমাদের জানায় সে সাঁতার জানে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিকেল ৫টার দিকে সাঁতার কাটা শুরু হয়। সাঁতার কাটতে নেমে প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর পানিতে যায়, আবার ফিরেও আসে। আমরা সকলে যখন সাঁতারে ব্যস্ত ছিলাম। তখন সে কখন আবারো ৯ ফুট গভীর পানিতে চলে যায় তা আমরা কেউই খেয়াল করিনি। হঠাৎ ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে ৯ ফুট গভীর পানি থেকে সুইমিংপুলের স্টাফরা তুলেন। তৎক্ষণাৎ শরীরে ঝাঁকুনি দেয়। তখন সে বমি করে এবং নিশ্বাস নিচ্ছিল। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে তার ইসিজি করা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, আমাদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন।

​তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানকার এক কর্মী তাকে পানির কিছুটা নিচে চিত হয়ে ভেসে থাকতে দেখে আমাকে জানালে, আমি তাকে উদ্ধার করে ঝাঁকুনি দিতে থাকি। তখন সে বমি করে এবং হালকা নিশ্বাসও নিচ্ছিল। পরে তাকে সিএনজিতে করে নগরীর দরগাহ গেট সংলগ্ন নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

​এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা আসছেন। আপাতত তার মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে।

​তিনি আরও বলেন, সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​সিলেটের বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (পরিদর্শক) আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যান। পরবর্তীতে ডুবন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরে রফিক মিয়া নামে সুইমিং পুলের এক কর্মী বিষয়টি দেখতে পেয়ে ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলামকে জানান। এরপর তারা দ্রুত পানিতে নেমে দীপাঞ্জনকে উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন।

উদ্ধারের পর দীপাঞ্জন বমি করতে থাকলে তাকে দ্রুত নগরীর দরগাহ গেট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়েছে।

নগরীর দরগাহ গেইটস্থ নূরজাহান হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাসিম হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। এর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট