বঙ্গবীর ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে জাতীয় জনতা পার্টির শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

বঙ্গবীর ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে জাতীয় জনতা পার্টির শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

জাতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ১০৮ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে পার্টির জাতীয় কমিটি ও সিলেট বিভাগ, জেলা ও মহানগর শাখা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাদ যোহর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ এডভোকেট মোঃ নুরুল ইসলাম খানের পূত্র পার্টির চেয়ারম্যান ও সূূপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী তাহমিনুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ওসমানীর সমাধিতে পূস্পস্তবক অর্পণ, জিয়ারত ও মাজার মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযুদ্ধা কাজী গোলাম মর্তুজা, জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গণদাবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান, সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আকলিছ আহমদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি দেলওয়ার হোসেন খান, মহানগরের সভাপতি মোঃ শফিকুর রহমান, প্রফেসর আব্দুল মুহিত, সেলিম আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বকুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুহিন আহমদ খান, দপ্তর সম্পাদক কিরণ দেব নাথ, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, জাকারিয়া তালুকদার, ইউছুফ শেলু, আব্দুল ওয়াদুদ, এমএজি ওসমানীর গাড়ি চালক বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, মহানগর দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনি সহায়তাকারী সংস্থার সিলেট আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ সবুজ, সহ-সভাপতি জাবেদ হোসেন, সংগঠনিক সম্পদক সুহেল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক সুমন শিকদার ও আমির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহমদ প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আবু ইউসুফ চৌধুরী ও হাফিজ আব্দুস সালাম।

জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ও সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খান দোয়া মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় বলেন, জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতিকে সংগঠিত করে স্বাধীনতার মহান বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার সূদক্ষ্য রণকৌশলে দেশ মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা লাভ করে। আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সর্রবাধিনায়, বঙ্গবীর, জেনারেল মহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানী সহ সকল সেক্টর কামান্ডার, মুক্তিযুদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদকে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন কোনোটিই টিকবে না। আমরা উদ্বিগ্ন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান অবনতির পথে রয়েছে, যেখানে শিক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট, তেল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য জনগনের নাগালের বাইরে চলে গেছে,শিশু ধর্ষণ, বলাতকার বেড়ে গেছে এসব বিষয়ে প্রতিকারের জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বঙ্গবীর ওসমানীর সব স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করাই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ। জাতীয় জনতা পার্টি বিশ্বাস করে, বঙ্গবীর ওসমানীর স্বপ্ন ছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তাই নির্বাচন এলাকাভিত্তিক হতে হবে ব্যক্তির ইমেজের ভিত্তিতে, যাতে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। তারা সংসদে গিয়ে নিজ নিজ দল বেছে নেবেন। এ ব্যবস্থায় মনোনয়ন বাণিজ্য ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে, বড় দলের অযাচিত প্রভাব কমবে এবং গণতন্ত্র জনগণের প্রকৃত অধিকারভিত্তিক হবে। তিনি বিগত নির্বাচনে জাতীয় জনতা পার্টিকে নিবন্ধন না দিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে না দেয়ায় কড়া প্রতিবাদ জানান।

ভাসানী-ওসমানী স্মৃতি সংসদের পুষ্পস্তবক অর্পন;

ভাসানী-ওসমানী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশের দুর্যোগ মুহূর্তে কান্ডারী, একদলীয় শাসনের একমাত্র প্রতিবাদকারী জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণী ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়।
কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বাদ জোহর শাহজালাল দরগাহ প্রাঙ্গণে ওসমানীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন, ফাতেহা পাঠ ও কবর জিয়ারত। বিকালে ওসমানীর কর্মময় জীবনের উপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

সংসদের উপদেষ্টা, ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভাসানী-ওসমানী স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম বকুল।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন এম এ আলী জালালাবাদী, জুলাইযোদ্ধা মারজান, জুলাইযোদ্ধা গৗছ আলম রুহেল, জুলাইযোদ্ধা মামুন আহমদ, মোহাম্মদ জাহিদ নুর, মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃস্থায়ী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জেনালে ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী রাষ্ট্্রীয় ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়ে বলেন, বঙ্গবীর ওসমানী ছিলেন সৎ ও আদর্শের রাজনীতির অগ্রপথিক। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশিত ভূখণ্ড স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভে অসামান্য অবদান রেখেছেন ওসমানী। একাত্তরের দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে যার রণকৌশল ও নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি লাল সবুজের পতাকা। আজকের দিনে বঙ্গবীর ওসমানীর মত দেশপ্রেমিক মানুষের বড়োই প্রয়োজন। তাঁকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ রয়েছে। তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী’র বর্ণঢ্য জীবনী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবী জানান।

বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ;

মহান মুক্তিযুদ্ধের সি ইন সি, বাংলদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক ও প্রথম জেনারেল, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের সর্ব্ববৃহৎ নির্বাচনী এলাকা বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমএনএ, বাংলাদেশের ১ম সাধারণ নির্বাচনে বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী, সংসদীয় গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা, জাতীয় নেতা, সততা, নিয়মানুবর্তিতা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল প্রতীক, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষহীন ব্যক্তিত্ব বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীর ১০৮ তম জন্মবার্ষিকী বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের উদ্যোগে ১লা সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বাদ জোহর থেকে হযরত শাহপরাণ (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক্ষ-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে খতমে কোরআন ও বাদ আছর হযরত শাহজালাল রহ: মাজার প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জিয়ারত শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন লেখক আব্দুল মালিক এডভোকেট, সিনিয়র সাংবাদিক চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফেরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মকসুদ হোসেন, সাংবাদিক শেখ আব্দুল মজিদ, কণ্ঠশিল্পী তুহিন আহমদ, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান, এম.এ আলী জালালাবাদী, হাফিজ মাওলানা আবু ইউসুফ চৌধুরী, মাওলানা হাবিব উল্লাহ, আমিরুল হোসেন চৌধুরী, ওয়াহিদুর রহমান, শ্রমিক নেতা আবাজ আহমদ, মাওলানা দিলওয়ার হোসেন, হাবিবুর রহমান, দিলওয়ার হোসেন, হোসাইন আহমদ সিরাজ, নুরুল ইসলাম, আব্দুল খালিক, ইসহাক মিয়া, জাহেদ আহমদ প্রমুখ।

বঙ্গবীর ওসমানী, তাঁর মাতা-পিতা, ভাই-বোন সহ ৭১ এর সকল শহীদানদের রূহের মাগফেরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন শাহপরাণ (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফিজ মাওলানা শামসুল ইসলাম ভাদেশ্বরী।

উক্ত কর্মসূচিতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ ও মরহুমের হিতাকাঙ্খী, শুভাকাঙ্খী সহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ গ্রহণ করায় বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। বিজ্ঞপ্তি



সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট