|
প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
আজ ১ সেপ্টেম্বর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ‘রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগিতায় প্রাচীন নৌবন্দর রানীগঞ্জ বাজারে চালায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। এর ঠিক এক দিন আগে, ৩১ আগস্ট শ্রীরামসি গ্রামে সংঘটিত হয়েছিল আরেকটি গণহত্যা। সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন রানীগঞ্জে ঘটে যায় আরেক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ।
ইতিহাসের সেই রক্তাক্ত দিনের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধীরা ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের কথা বলে বাজারে মাইকিং করে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং নদীতে থাকা বড় বড় নৌকার মাঝিসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বাজারের একটি বড় দোকানে জড়ো হন। কিন্তু সেখানে জড়ো হওয়া মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকিস্তানি সেনারা চারদিক থেকে দোকানটি ঘিরে ফেলে। পরে সবাইকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে নদীর তীর। একের পর এক মানুষ লুটিয়ে পড়েন কুশিয়ারা নদীর বুকে। স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায় অসংখ্য মরদেহ। মুহূর্তেই নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই হত্যাযজ্ঞে দুই শতাধিক মানুষ শহীদ হন। তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩৪ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় আজও অজানা। হত্যাকাণ্ডের পরও থামেনি হানাদার বাহিনীর তাণ্ডব। পুরো রানীগঞ্জ বাজারে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাজারের দোকানপাট।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও রানীগঞ্জ গণহত্যার শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে এখনো কোনো সরকারি ‘স্মৃতি পরিষদ’ গঠিত হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও আক্ষেপ। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি স্মরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘শহীদ গাজী ফাউন্ডেশন’ ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আসছে। এবারও সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের এই রক্তাক্ত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্মৃতি পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D