আম্বরখানায় পার্কিং দখল করে দোকান, ব্যবস্থা নেয়নি সিসিক

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

আম্বরখানায় পার্কিং দখল করে দোকান, ব্যবস্থা নেয়নি সিসিক

সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট সংলঘ্ন ওয়েভস আবাসিক এলাকার শীতলগলির মুখে নির্মিত আব্দুল গাফ্ফার কমপ্লেক্সের অবৈধ পার্কিং প্লেস উচ্ছেদে তিন বছরে ৮ আর তদন্ত ও ৬ বার নোটিশ করেও উদ্ধার করতে পারেনি সিলেট সিটি করপোরেন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভবনের অংশিদার ওয়েভস-এ ৭৮ নম্বর বাসার বাসিন্দা মৃত আবুল লেইছ চৌধুরীর মেয়ে রোকসানা লেইছ। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার স্বামী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তারা প্রশ্ন তুলেন- কার ইশারায় ও মদদে সিসিক পার্কিং প্লেস উদ্ধার করতে পারছে না।

বক্তব্যে রোকসানা লেইছ উল্লেখ করেন ভবন নির্মাণ করে হিস্যা অনুযায়ী তারা ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু ভবনের অংশিদার চাচাত ভাই আব্দুল হাসিব তুহেল, আব্দুল আলিম রাসেল ও তাদের চাচি মনোয়ারা বেগম নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবনে বর্ধিত অংশ নির্মাণ ও ভবনের পার্কিং প্লেসে ব্যবসা প্রতিষ্টানকে ভাড়া দেন। তাদের এমন কর্মকান্ডে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ ও পার্কিং প্লেস থেকে দোকান উচ্ছেদের একাধিক আবেদন করেন তিনি। কিন্তু গত তিন বছরে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ বার বার তদন্ত ও অভিযুক্ত পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে। সর্বশেষ চুড়ান্ত নোটিশের পর গত ১২ আগষ্ট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযানে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রোকসানা।

বক্তব্যে রোকসানা জানান সিসিক উচ্ছেদে গিয়ে মনে হয়েছে তারা কনে দেখতে গিয়েছিল। নকশা পরিবর্তন ও বিল্ডিং কোড অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সিসিক ব্যবস্থা না নেওয়াটা রহস্যজনক। অর্থের বিনিময়ে হোক কিংবা কারো ইশারায় হোক নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে সিসিক। কার স্বার্থে সিসিক কাজ করছে-এমন প্রশ্ন তুলেন রোকসানা।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা জানান তার এক বছর বয়সের সময় পিতা মারা যান। শীতলগলির মুখে মেইন রোডের পাশে তাদের উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া জায়গার উপর যৌথ মালিকানায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন। প্রত্যেকে হিস্যা অনুযায়ী অংশ পান। অংশিদাররা তিন অংশ হওয়ায় তারা আলাদা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। ২০২১ সালে তুহেল, রাসেল ও মনোয়ারা তাদের অংশের সাথে ভবনের সামনে বর্ধিত অংশ দখল করেন এবং পরবর্তীতে পার্কিং দখল করে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যাক্তির কাছে ভাড়া দেন। মিজান সেখানে ইলেক্ট্রনিকের দোকান দিয়েছেন। পার্কিং প্লেসের রাস্তার মুখে দোকান দেওয়ায় পুরো পার্কিং জোনটি বন্ধ হয়ে যায়। নকশা বহির্ভূত কাজ করায় ২০২৩ সালে সর্বপ্রথম ভবন স¤প্রাসরণের কারণে রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও পরে পার্কিং প্লেসে দোকান ভাড়া বিষয়ে সিসিকের মেয়র বরাবর অভিযোগ করার পর তদন্ত শুরু হয়। অভিযুক্তরা বার বার আইন অমান্য করে সিসিককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

রোকসানা জানান গত তিন বছরে ওই কাজের জন্য তার স্বামী কম হলেও একশবার সিটি করপোরেশনে গেছেন। বার বার তদন্ত ও নোটিশের পর সর্বশেষ গত ১২ আগষ্ট উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় সিসিক। ওইদিন সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে যাওয়ার পর উচ্ছেদ না করে ফিরে আসে অভিযানিক দল। পরবর্তীতে উচ্ছেদ না করার কারণ হিসেবে সংশিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের অংশিদারিত্ব নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও জটিলতা উল্লেখ করে দেওয়ানী মামলার পরামর্শ দিয়ে মতামত দেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

রোকসানা প্রশ্ন তুলেন, ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ ও পার্কিং প্লেস উদ্ধারের বিষয় পারিবারিক ও সম্পদ নিয়ে বিরোধ হয় কিভাবে? বিষয়টি স্পষ্ট সিসিকের এখতিয়ারভুক্ত থাকার পরও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সীদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছে না সিসিক। সামান্য কাজ টুকু যদি সিসিক না করতে পারে তা হলে আমরা ট্যাক্স কেন দেব।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা লেইছ বিষয়টি আবার গুরত্ব দিয়ে দেখার জন্য সিসিক প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বাস্তবিক পদক্ষেপ না নিলে আদালতে যাওয়ার কথা জানান তিনি।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট