|
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতা আনুজানি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুন নুরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভাতগাঁও ও দোলারবাজার ইউনিয়ন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুই ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে ভাতগাঁও ইউনিয়নের আনুজানি পয়েন্টে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে এবং হামলার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়ে তারা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুন নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শাহ জামালের সভাপতিত্বে এবং আলীম উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষক হামিদুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল আলী, আরজু মিয়া মেম্বার, আব্দুল মান্নান, সমরাজ মিয়া, আবু বকর, মুসলিম উদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত শনিবার ভাতগাঁও ইউনিয়নের আনুজানি এলাকায় মাহমুদুল হাসান ছালিকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুন নুরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় ধরনের হুমকি। অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা আব্দুন নুরের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এমনকি তাকে গুম করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাহমুদুল হাসান ছালিকের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী অতীতেও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে জমি দখল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দাপট থাকলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রত্যেক অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আব্দুন নুরের ওপর হামলার ঘটনায় যদি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্ধারের
ব্যবস্থা এবং আব্দুন নুরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে সন্ত্রাস, দখলবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আব্দুন নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ মানুষ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে আনুজানি পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মিছিলসহকারে এসে মানববন্ধনে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
বক্তারা শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আব্দুন নুরের ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এলাকায় ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D