|
প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬
সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনালে এক অনাকাংক্ষিত সংঘর্ষে ২ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষিদের বিচার ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেটের পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বশীল শীর্ষ সংগঠন ‘সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন’।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৭ এপ্রিল কদমতলী বাস টার্মিনালে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জন এজাহারভুক্ত আসামির পাশাপাশি সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মো. ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ নিরপরাধ কয়েকজন শ্রমিক নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পর দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে তদন্ত কার্যক্রম চালনা করে তদন্তে মামলার ১নং আসামি হাজী ময়নুল ইসলাম, ২নং আসামি আলী আকবর রাজন, ৬নং আসামি আব্দুস শহীদ ৭নং আসামি শামসুল হক মানিকের বিরুদ্ধে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এ ধারায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
অন্তর্বর্তীকালিন এ তদন্ত প্রতিবেদনে এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও মামলার আইও মফিজুল ইসলাম মোবাইল ট্র্যাকিং, তথ্য প্রযুক্তি এবং সিডিআরএমএম-এর তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত ঘটনার সময় প্রথম ৩ জন নাজিরবাজারে সংগঠনের উপ-কমিটির নির্বাচনে উপস্থিতি এবং বাকী ২ জন ঐ সময় হবিগঞ্জে অবস্থান নিশ্চিত করেন।
অথচ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেইসবুকে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ও নানা অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুলাই আজির উদ্দিন ও ১ আগস্ট ছাবলু মিয়ার সংবাদ সম্মেলন মিথ্যার বেসাতি ছাড়া কিছুই ছিলনা। ঐ সংবাদ সম্মেলন আমাদেরকে দায়ী করেছেন অথচ তার দায়েরকৃত দক্ষিণ সুরমা থানার জি.আর মামলা নং-০৭/৯৪-২০২৬ ইং মামলার আসামী- ১) শাহজাহান, ২) আব্দুল মুহিম, ৩) রিয়াজুল ইসলাম (রাজন), ৪) আবুল হোসেন, ৫) হোসাইন মোহাম্মদ সুন্দর আলী, ৭) অপু, ১০) সেলিম উদ্দিন, ১২) আব্দুর রুপ গংরা শ্রমিক দেলোয়ার ও রিপন হত্যার ইন্ধনদাতা ও মূল আসামী।
বক্তারা জানান, একই ঘটনায় মৃত দেলোয়ারের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার দক্ষিণ সুরমা সি আর মামলা নং-১৪৫/২০২৬ ও আজির উদ্দিন এবং তার পুত্রবধুর দায়ের করা দুটির মামলায় আমাদের নাম না থাকা স্বত্তেও উপরোল্লিখিত আসামীদের প্রলোভনে সংবাদ সম্মেলনে এবং বিভিন্ন অনলাইন চ্যানেলে আমাদের নাম উল্লেখ করে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।
বক্তারা আরো জানান, এ ঘটনায় ০৬/৯৩ মামলার বাদী নিহত শ্রমিক রিপনের পিতা ছাবলু মিয়া গত ৩০ এপ্রিল আদালতে ২২ জানের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩৩/২০২৬)। সেই মামলায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দের কোন নাম ছিলনা। পরবর্তী ৫ মে ছাবলু মিয়া আদালত থেকে এটি প্রত্যাহার করে দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়েরকৃত ০৬/৯৩ মামলার এজাহারে ইচ্ছাকৃতভাবে শ্রমিক নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
নিহত শ্রমিক রিপনের পিতা ছাবলু মিয়া ও নিহত শ্রমিক দেলোয়ারের পিতা আজির উদ্দিন নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করে একেক সময় একেকজনকে দায়ী করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা জানান, ০৭/৯৪ মামলার ৬নং আসামী পাপ্পু ও ৭নং আসামী অপু এবং অজ্ঞাত শাকিল আহমদসহ আরও অনেক বহিরাগত সেদিন সংঘর্ষে উপস্থিত ছিলেন অথচ তাদের কর্মস্থল বাস টার্মিনালে নয়। টার্মিনালে স্থাপিত সিসিটিভির বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে তাদেরকে দেখা গেছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেলোয়ার এবং রিপনের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও ফুটেজ গায়েব করে দিয়েছে আসামীরা। ফলে পুলিশ, প্রশাসন সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হারিয়ে যাওয়া ভিডিও ফুটেজ খুঁজে বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ শ্রমিক নেতাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।
সেই সাথে এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে কোন নিরাপরাধ সাধারণ শ্রমিক, নেতাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানী না করার আহবান জানান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ২৭ এপ্রিলের সংঘর্ষে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, যানবাহন, অফিস ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকা, শ্রম আদালতে ২টি সুলেহনামাসহ আরো ৫টি সংগঠনবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপের অপরাধে সংবিধানের ৭-এর ক, খ ও ২৬নং ধারা মোতাবেক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর মুহিমকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D