ছাতকে ‘আছিয়া বেগম’ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোরে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬

ছাতকে ‘আছিয়া বেগম’ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোরে গ্রেপ্তার

আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ)


সুনামগঞ্জের ছাতকে আলোচিত আছিয়া বেগম হত্যা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি হাফিজুর রহমান (৩০)কে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেট এবং র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোরের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ২৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. নূর মিয়ার ছেলে। তিনি আছিয়া বেগম হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত আছিয়া বেগম ছাতক উপজেলার বনগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি ও মামলার আসামিরা পরস্পরের আত্মীয় এবং একই গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের মেয়ের শ্বশুর নূর মিয়া মামলার অন্যতম আসামি। আছিয়া বেগমের মেয়ের স্বামী প্রবাসে থাকায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ ও ঝগড়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে আছিয়া বেগমের মেয়েকে মারধর করা হয়।

এ ঘটনার সমাধানের জন্য গত ৭ জুন সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে আছিয়া বেগম, তার স্বামী এবং উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিশ শেষে আছিয়া বেগম ও তার স্বামী বাড়ি ফেরার পথে বনগাঁও এলাকায় নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পাকা সড়কে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নূর মিয়ার নির্দেশে হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিরা রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি, লাঠি, কাঠের বর্গা ও ইটের টুকরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আছিয়া বেগম ও তার স্বামীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থল রক্তাক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে আছিয়া বেগম মারা যান। তার স্বামী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ছাতক থানার মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ১১ জুন ২০২৬। মামলায় পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলা দায়েরের পর থেকেই র‍্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রধান আসামি হাফিজুর রহমান যশোর জেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেট এবং র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোরের সদস্যরা যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাফিজুর রহমানকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৯ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আলোচিত এ হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট