১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬
সিলেটে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করতে “স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং লিড ব্যাংক হিসেবে ট্রাস্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক ছিল স্টুডেন্ট ব্যাংকিং এ প্রথমবারের মতো কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি।
“আর্থিক সাক্ষরতায় সূচিত হোক নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় একটি র্যালি বের হয়। র্যালি শেষে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
সুকান্ত গুপ্ত ও রোহেনা সুলতানার যৌথ সঞ্চালনায় ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিএসডি ও সিআরও আখলাসুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শেষ আবু এহতেশাম এবং গীতা পাঠ করেন দিশারী স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরমা প্রকৃতি ভট্টাচার্য।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভিপি এবং হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং ডিভিশন মোঃ ওয়াহেদ ইবনে শাহেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের মূলধন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যদি টিফিনের টাকা থেকে সামান্য সঞ্চয় করে, তাহলে এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার চাবিকাঠি হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জীবনেও যদি এরকম ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সঞ্চয়ের সুযোগ থাকত, তাহলে আমরা আরও আর্থিক সফলতা অর্জন করতে পারতাম। অনেক টাকা সঞ্চয় থাকত।” তিনি জানান, ক্রমান্বয়ে সিলেটের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
খালেদ আহমদ বলেন, দেশে প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। সকল শিক্ষার্থী যদি ক্যাশলেস লেনদেনের আওতায় আসে, তাহলে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। আগামী পহেলা জুলাই থেকে সকল ব্যবসায়িক লেনদেন ক্যাশলেস করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার কম সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেছে, যাতে দেশে সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয় এবং বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রয়োজন কমে। এতে দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মোঃ ইকবাল মহসিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের উপ-পরিচালক (কলেজ) ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ ইকবাল মহসিন বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ ৩০ হাজার সক্রিয় স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে জমা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ব্যাংক গ্রাহক। তাই এখন থেকেই তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে হবে।”
তিনি জানান, ২০১০ সালে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয় এবং ২০২৫ সালে গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। পূর্বে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সুবিধা থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। ১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে আয়ের উৎস ছাড়াই হিসাব পরিচালনা করতে পারবে। আর ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আয়ের উৎস দেখাতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং সেবার বাইরে ছিল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একসময় বৃহৎ আকার ধারণ করবে এবং এতে শিক্ষার্থী, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সকলেই উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং গাইডলাইন্স প্রেজেন্টেশন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. মাহাবুব উল আলম। বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ড. খোকন চন্দ্র বিশ্বাস, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা সুমা দত্ত এবং সিলেট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ।
অনুভূতি প্রকাশ করেন জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান, ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সপ্তক রায়, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পুষ্পিতা প্রশান্ত।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বক্তব্য, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্টুডেন্ট হিসাব খোলায় বিভিন্ন ব্যাংকের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রথম স্থান অর্জন করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, দ্বিতীয় স্থান পূবালী ব্যাংক এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে সোনালী ব্যাংক। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D