ওসমানীনগরে ছিনতাইকারীর কবলে স্কুল শিক্ষিকা, এক মাসে একাধিক ছিনতাই

প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০২৬

ওসমানীনগরে ছিনতাইকারীর কবলে স্কুল শিক্ষিকা, এক মাসে একাধিক ছিনতাই

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার খাশিকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাল্গুনী ভট্টচার্য স্কুলে যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। সিসিটিভি ক্যামেরাও এই ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়ে।

জানা যায়, গত বুধবার (৬ মে) সকাল ৯টার দিকেকদমতলা-সুরতপুর রোডের বুরামপুর এলাকায় দুই ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। তবে পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত টমটম চলে আসায় ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান ওই শিক্ষিকা। তবে ভয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করেননি শিক্ষিকা ফাল্গুনী।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছিনতাইকারী আমার পথরোধ করে। পরে পেছন থেকে একটি টমটম আসতে দেখে তারা পালিয়ে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।

এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আমি কোনো অভিযোগ করিনি। আর করবও না।

সাম্প্রতিক সময়ে ওসমানীনগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এমনকি থানা ও ওসির বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতেও নিরাপদ নন সাধারণ মানুষ।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার জনবহুল গোয়ালাবাজার সাব-পোস্ট অফিসে এক দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার খাতা গ্রহণ শেষে অফিস বন্ধ করার মুহূর্তে একদল সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে তিন কর্মচারীকে জিম্মি করে তাদের কাছে বেশি কিছু না পেয়ে তাদের হাত খরচের হাজার খানিক টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।

তবে নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে তারা এখন আর বিকেলে ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার খাতা গ্রহণ করছেন না। এতে ব্যাহত হচ্ছে -পোস্ট অফিসের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে গোয়ালাবাজার সাব-পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার কেশব চক্রবর্তী জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। জনবহুল বাজারে এমন ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে গত ৭ এপ্রিল সকালে। ইলাশপুর গ্রামে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়ার বাসভবন ‘আর কে টাওয়ার’-এর সামনে মিতা দেব নামে এক গৃহবধূ ছিনতাইয়ের শিকার হন।

ভুক্তভোগী মিতা দেব তাঁর সন্তানকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন লালকৈলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ‘আর কে টাওয়ার’-এর সামনে আসা মাত্রই হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা ৩ জন ছিনতাইকারী মিতা দেবের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে একটি স্বর্ণের চেইন ও একজোড়া কানের দুল লুটে নেয়। থানার একদম কাছে এবং ওসির বাসার সামনে এমন দুঃসাহসিক ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন।

একের পর এক সিরিজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া কত কয়েক দিনে গোয়ালাবাজার দয়ামীর সহ একাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু গরু চুরি সহ একাধিক চুরির ঘটনাও ঘটে।

এদিকে উপজেলার গোয়ালাবাজারের দাশপাড়া গ্রামে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামের বিভিন্ন স্পটে বসে ভাসমাট ইয়াবার হাট। মাদকের ছড়াছড়ি বন্ধে সম্প্রতি গ্রামবাসীরা আন্দোলনে নামেন। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ প্রদান করলে পুলিশ এলাকাবাসীদের নিয়ে বিট পুলিশিং সভা করেন ওই গ্রামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতে এবং জনবহুল স্থানে এসব ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত টহল জোরদার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব ঘটনায় পুলিশের নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, গোয়ালাবাজার সাব-পোস্ট অফিসে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি । বিষয়টির তদন্ত চলছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট