ওসমানীনগরে শালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৬

ওসমানীনগরে শালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় শালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৬জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের কিত্তে কমরপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সামাদ (২৭) একই গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে।

আটককৃতরা হলেন, কিত্তে কমরপুর (সিকন্দরপুর) গ্রামের মৃত রহিম উল্যার ছেলে রফিক মিয়া, শফিক মিয়া, আব্দুল কাহির, আব্দুস সত্তার, আব্দুল কাহিরের দুই ছেলে আব্দুস সামাদ রাহিল ও জাবেদ মিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ইফতারের আগে পারিবারিক রাস্তা নিয়ে আব্দুল সামাদ ও রফিকুল ইসলামের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের পর একই গ্রামের মাসুক মিয়ার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাকির আহমেদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাবেক মেম্বার মিনার আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

এ সময় ধারালো চাকুর আঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল সামাদ। পরে তাকে উদ্ধার করে বালাগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত নিহত সামাদের ভাই সুহেল, রুহেল, চাচাতো ভাই আলী, শ্বশুর আব্দুল গফফার সহ কয়েকজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই ৬জনকে আটক করে পুলিশ।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া হতাহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যা মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট