সিলেটে বেদখল হওয়া ৩৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২৫

সিলেটে বেদখল হওয়া ৩৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়ায় বেদখল হওয়া ৩৫ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় বেশকিছু স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জাল দলিল লেখক শাহজাহান ওমর। অপরজন চা বাগানের সাবেক ম্যানেজার এবং জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মোসাদ্দেক হোসেন কোরেশী।

জানা গেছে, বাগানের সাবেক ম্যানেজারসহ লিটন ও শাহজাহান ওমরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে একটি জালিয়াত চক্র প্রভাব খাটিয়ে বাগানের খাস জমি দখল করে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করছিল। বাগান শ্রমিকদের উচ্ছেদের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দু’জনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান মোজাম্মেল হোসেন লিটন (৩৮) কে গ্রেপ্তার এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।



সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, আজ আমরা প্রায় ৩৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছি। এই জমি খাদিম নগর চা-বাগানের দায়িত্বে ছিলো, কিন্তু তা ঠিকমতো দেখভাল না করার কারণে জমি দখল হয়ে যায়। এখানকার চা শ্রমিকেরা জমি দখলের পাশাপাশি জাল দলিল করে জমি বিক্রি করছিল। এমন অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযানে নেমেছি, এবং সত্যতাও পেয়েছি।

তিনি জানান, আমরা ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এবং এখানকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং জমি কেনা-বেচার বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সদর উপজেলার ইউএনও।

অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলীম উল্লাহ খান এবং সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ।

অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ আনসার সহযোগিতা প্রদান করে।

এদিকে দীর্ঘদিন পরে হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।