রাজধানীতে মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় গেল প্রাণ পথচারীর

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৫

রাজধানীতে মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় গেল প্রাণ পথচারীর

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আবুল কালাম নামে এক পথচারী। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে মর্গের সামনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া।

এক ছেলেকে কোলে নিয়ে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আজকে (কালামকে) আমি বিদায় দিতে চাইনি। দরজা লাগাতেও যাইনি। আমার বাচ্চাদের কী হবে?’

এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় মেট্রো লাইনের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে ৩৬ বছর বয়সী আবুল কালামের মৃত্যু হয়। তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি এলাকার জলিল চোকদারের ছেলে।

নিহতের ভাগ্নে শাহাদাত মর্গের সামনে বলেন, নিহত আবুল কালাম ট্রাভেল এজেন্টে এয়ার টিকেট বিক্রির কাজ করতেন। তার তিন ও চার বছর বয়সী দুটো ছেলে রয়েছে; পরিবার নিয়ে থাকতেন নারায়ণগঞ্জে।

তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনের ফুটপাত দিয়ে আবুল কালাম হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

কম্পন প্রতিরোধের জন্য সেতু বা উড়াল সেতুতে ইলাস্টোমোরিক বিয়ারিং প্যাড বসানো থাকে। এ প্যাড নিওপ্রেন বা প্রাকৃতিক রাবার দিয়ে তৈরি, যা পিয়ার ও ভায়াডাক্টের সংযোগস্থলে বসানো হয়। কোনোটির ভেতরে কয়েক পরতে থাকে স্টিলের কাঠামো, আর উপরে থাকে রাবার। এগুলো ওজনে অনেক ভারী হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই প্যাড পড়ে একজন মারা যাওয়ার পাশাপাশি ফুটপাতে একটি চায়ের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি।

পাশাপাশি সরকার নিহত পথচারীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাৎক্ষণিক পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। তার দাফন-কাফনের সব খরচও বহন করবে সরকার।

রোববার (২৬ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম তৌফিক হাসান, এমআইএসটি-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ডিএমটিসিএল-এর লাইন-৫-এর প্রকল্প পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব। উপসচিব আসফিয়া সুলতানা কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে কারিগরি ও প্রকৌশলগত পর্যালোচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, কমিটি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত পূর্ববর্তী দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করবে। আর ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রস্তুত এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাও কমিটির কাজের অন্তর্ভুক্ত। কমিটিকে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পেশ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।6

ঘটনার পরপরই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং ডিএমটিসিএল এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একই লাইনের খামারবাড়ি এলাকায় একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়লে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট