সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪ বাংলাদেশি আটক

প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৫

সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪ বাংলাদেশি আটক

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ ও গ্রামবাসীর ওপর হামলার অভিযোগে চার বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাগলী সীমান্তবর্তী মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলার রংডাঙাই গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন– জামালপুর সদরের জাহাঙ্গীর আলম (২৫), নারায়ণগঞ্জের সায়েম হোসেন (৩০), কুমিল্লার মেহফুজ রহমান (৩৫) এবং জামালপুরের মারুফুর রহমান (৩২)। এদের মধ্যে মারুফুর নিজেকে পুলিশ কনস্টেবল পরিচয় দিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে পরিচয়পত্রও দেখিয়েছেন তিনি।

এদিকে শনিবার রাতে তাহিরপুরের বাগলী এলাকার একাধিক বাসিন্দা গণমাধ্যকে জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে গুলি চালানোর অপরাধে চিহ্নিত পুলিশ সদস্য পালাতে গিয়ে ভারতে ধরা পড়েছেন। বাগলী, বাগানবাড়ি, রংগাছড়া থেকে বিএসএফ তাদের আটক করেছে বলে সীমান্তের লোকজন জানিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের ছবি এবং ভিডিও পাঠিয়েছেন অনেকে।

মেঘালয়ের ইস্টমোজো অনলাইন পত্রিকায় চার বাংলাদেশিকে আটকের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘মেঘালয়ে যুবকের ওপর হামলা, সন্দেহভাজন চার বাংলাদেশি আটক’ শিরোনামে ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিও প্রতিবেদন করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এতে দেখা যায়, জঙ্গল থেকে চারজনকে আটক করছে বিএসএফ, পুলিশ ও গ্রামবাসী। এ সময় অনেক মানুষ আক্রমণাত্মকভাবে চিৎকার করছে।

ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলে এক যুবকের ওপর আক্রমণ করে এবং অপহরণের চেষ্টায় জড়িত। ঘটনাস্থল তাহিরপুর সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। পশ্চিম খাসি পাহাড়ের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হামলায় এক যুবক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মেঘালয়ের হাইল্যান্ড পোস্ট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে প্রবেশকারীদের একজন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি গেকো (এক প্রজাতির টিকটিকি) শিকার করছিল। অন্য তিনজন বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগের সদস্য; ভারতে আশ্রয় নিতে চান। এ ছাড়া জানা গেছে, ওই চার বাংলাদেশি কয়লা চুরি করতে ভারতে প্রবেশ করেছিল।

চার বাংলাদেশির ভিডিও প্রকাশ করেছে বিএসএফ। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের আগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাদের ওপর আক্রমণ করে। মেঘালয়ের পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশের পুলিশ কনস্টেবলের একটি আইডি, হাতকড়ি, একটি ম্যাগাজিনের কভার, পিস্তল হোলস্টার, রেডিও সেট, মোবাইল ফোন, মুখোশ, একটি কুঠার, একটি তার কাটার যন্ত্র, বাংলাদেশী মুদ্রা এবং অন্যান্য বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছে।

বিস্তারিত জানিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড়ের পুলিশ সুপার বানরাপলাং জিরওয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণে মারুফুর গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য রাণীখোর সিএইচসিতে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য তিনজন হামলায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাদের রোববার আদালতে হাজির করা হয়েছে। মারুফুর পুলিশ কনস্টেবল কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জাকির হোসেন জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবলের যে আইডি কার্ড দেখানো হয়েছে, সেটাতে অসামঞ্জস্য আছে। তিনি রাজধানীতে চাকরি করতেন, এখন চাকুরিচ্যুত।

সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক জাকারিয়া কাদির বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই চার বাংলাদেশির অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। তারা ছয়-সাতজন একসঙ্গে ওখানে গিয়েছিলেন। আটকদের বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফের আলাপ হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট