সাংবাদিক শিপুকে ধর্মের ভাই বানালেন বীরপ্রতীক কাকন কন্যা সখিনা

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৭

সাংবাদিক শিপুকে ধর্মের ভাই বানালেন বীরপ্রতীক কাকন কন্যা সখিনা

(ছবিগুলো ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

সাহেদ আহমদ : দৈনিক সবুজ সিলেট ও আমাদেরসময়ের সিলেট প্রতিনিধি সাংবাদিক নুরুল হক শিপুকে ধর্মের ভাই বানিয়েছেন বীরকন্যা, বীরপ্রতীক কাকন বিবির মেয়ে সখিনা। কাকন কন্যা সখিনা জানান, এ পৃথিবীতে আমার মা আমার সব। আমার কোনো সন্তান নেই। মা শুধু মা নন, তিনি আমার সন্তানও। সেই মা গত বুধবার ব্রেন স্ট্রোক করেন। শুক্রবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে মাকে নিয়ে আসি। মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চার তলায় একটি ওয়ার্ডে ভর্তির ব্যাবস্থা করলেও কেবিনের ব্যাবস্থা করে দেননি কর্তৃপক্ষ।

বীরকন্যা, বীরপ্রতীক কাকন বিবি ওসমানীতে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন জেনে গত শনিবার সাংবাদিক শিপু হাসপাতালে আসেন। এ  ব্যাপারে আমাদের সাথে কথা হয় সাংবাদিক শিপু’র, তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান কাকন বিবিকে কেবিন দেয়া হয়নি কেন? তিনি সাথে সাথে হাসপাতালের উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করলে, রাতে মাকে (কাকন বিবি) কেবিনে নেয়া হয়। পরদিন রবিবার মাকে নিয়ে শিপুর করা নিউজ পত্রিকায় প্রকাশ হয় । পরে সবাই জানতে পারেন। মাকে সবাই দেখতে আসছেন। চিকৎসার খবর নিচ্ছেন। কাকন কন্যা সখিনা বলেন, সাংবাদিক শিপু প্রথমেই কেবিনের জন্য কথা বলে ব্যবস্থা করে দেন। পত্রিকায় নিউজ করায় সবাই জানতে পারেন, মা অসুস্থ। তিনি বলেন, শিপু যা করেছেন হয়তো এ পৃথিবীতে আমার একটা ভাই থাকলে তাই করতো। সাংবাদিক শিপুকে আমি ধর্মের ভাই ডেকেছি। সে শুধু দুনিয়ায় নয়, আখেরাতেও আমার ভাই হিসেবে থাকবে। সখিনা বলেন, শিপুর জন্যই মায়ের ভালো চিকিৎসার ব্যাবস্থা হয়েছে এজন্য আমি কৃতজ্ঞ । মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সকল সাংবাদিবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মায়ের সুস্থতা কামনা করে সকলের দোয়া চেয়েছন।

এ ব্যাপারে কথা হয় সাংবাদিক নুরুল হক শিপুর সাথে। তিনি জানান, সবুজ সিলেটের বার্তা সম্পাদক ছামির মাহমুদ ভাই আমাকে বিষয়টি জানান। শনিবার অসুস্থ কাকন বিবিকে নিয়ে নিউজ করতে ওসমানী হাসপাতালে যাই। নিউজ করাটা ছিল আমার দায়িত্ব, আর কেবিনের ব্যাপারে কথা বলা ছিল কর্তব্য। কারণ, আমি মনে করি কাকন বিবিরা এ পৃথিবীতে বার বার জন্মান না। তিনি একজন অগ্নিকন্যা, বীরযোদ্ধা। মহীয়সী এ মাকে নিয়ে নিউজ করাটাও আমার ভাগ্য বলে মনে করি। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ত্রুটি আমি দেখছি না। কেবিনের ব্যাপারে কথা বলার সাথে সাথে কেবিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক। বর্তমানে এ বীরকন্যার চিকিৎসা ভালোই চলছে। তিনি বলেন, হ্যা সখিনা আপা আমাকে ধর্মের ভাই বলে আরেকটি ঋণে আবদ্ধ করেছেন আমাকে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট