বিজয়ের চেতনায় উন্নয়নের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে হবে : ড. জহিরুল

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩

বিজয়ের চেতনায় উন্নয়নের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে হবে : ড. জহিরুল

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, “আমাদের স্বাধীনতা পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দুসরদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন বিশ্বের বুকে এটি এক বিস্ময়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা, সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষ সর্বাত্মক এক যুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটায়। বর্তমানের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জনে বিজয়ের চেতনা নিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাসহ দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে কাজ করে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে হবে। সেখানেই স্বাধীনতা অর্জন সার্থকতা লাভ করবে।”
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রফেসর এম হাবিবুর রহমান হলে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রেজিস্ট্রার তারেক ইসলামের সঞ্চালনা এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন কমিটি ২০২৩ এর আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সুরেশ রঞ্জন বসাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন কমিটি ২০২৩ এর সদস্য সচিব অনিক বিশ্বাস। মূখ্য আলোচক ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক গাজী সাইফুল হাসান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল হক চৌধুরী, ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন সহযোগী অধ্যাপক শেখ আশরাফুর রহমান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিহিরকান্তি চৌধুরী, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আফসারুল ইসলাম, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক রিনা পাল,  সিএসই ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ মনসুরুজ্জামান ইমন ও ইংরেজি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্পা পাল প্রমুখ।
আলোচনা সভায় দেশ কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুচকের পাশাপাশি পরিসংখ্যান ও তথ্য উপাত্ত দিয়ে আলোকপাত করেন।

আলোচনা সভার সভাপতি মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক বলেন, “১৯৭১ ছিল প্রকৃতপক্ষে এক বিস্তৃত বধ্যভুমি, এক মৃত্যু উপত্যকা। ইতিহাসের কোথাও কোনো যুদ্ধে এত লোককে এতো নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়নি। বিজয়ের পথ কখনও মসৃণ ছিল না। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তি সবসময়ই আমাদের উপনিবেশসুলভ শাসন-শোষণ করেছিল। জাতির জনকের গড়া বাংলাদেশ এবং তার রক্তক্ষয়ী ও ত্যাগের ইতিহাস মহানায়কের প্রস্থানের সাথে সাথে বিকৃত হতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বিরুদ্ধবাদীরা প্রতিশোধ নিয়েছে । মুক্তিযুদ্ধের সঠিক পটভূমি ও ইতিহাস জানতে হবে । আমার অনুভূতিতে রক্তাক্ত অতীত, উজ্জ্বল বর্তমান ও আশাবাদী ভবিষ্যৎ ক্রিয়াশীল। আমাদের মূলুবোধের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পারলে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে নতুন ভবিষ্যতের দিশায়।”
আলোচনা সভার পর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দ, আইকিউএসির পরিচালক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রমা ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক ও ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায়, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. এম জেড আশরাফুল, ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মাশরুফ আহমেদ চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এদিকে সকাল নয়টায় নগরীর চৌহাটাস্থ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা ও ইউনিভার্সিটির পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক। এসময় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির রোভার স্কাউট দলের অভিবাদন ও সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। পরে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন বিভাগ ছাড়াও সফটওয়ার ইনোভেটরস ফোরাম, সিএসসি সোসাইটি, স্পোর্টস ক্লাব, ইংলিশ লিটারারী ক্লাব, ল ফোরাম, এম ইউ মুনাসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা করা হয়।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট