শান্তিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধ শতাধিক, আটক ৮

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩

শান্তিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধ শতাধিক, আটক ৮

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের কাজি বাড়ির পক্ষে ৬ গোষ্ঠী ও হাজি বাড়ির গোষ্ঠীর মধ্যে পঞ্চায়েতি কবরস্থানের পাশের জমিতে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

সংঘর্ষে গ্রামের ছয় গোষ্ঠীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন নূর মিয়া, ওদুদ মিয়া, আকিক মেম্বার ও আফরোজ মিয়াসহ বেশ ক’জন। অপর দিকে হাজি বাড়ির পক্ষে নেতৃত্ব দেন মো. আলী হোসেন।

উভয়পক্ষের গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় বন্দুক দিয়ে গুলা গুলি হয়। যদিও পুলিশ বলছে, গুলি ছোঁড়ার কোনো আলামত তারা পাননি।

মো. আলীর পক্ষের আহতরা হলেন- ইছব আলীর ছেলে আতাউর রহমান (৫০), লুতফুর রহমান (৪০), হাফিজুর রহমান (৩৮), ফয়জুর রহমানের ছেলে সেলিম আহমদ (৩০), জব্বার আলীর ছেলে লিমন আহমদ (১৮), আতাউর রহমান এর ছেলে রেদুয়ান আহমদ (২০), মজুমদার আলীর ছেলে নাছির মিয়া, বাবুল মিয়া (৪৫), নুরুজ্জামাল (৪২), রেওল মিয়া (৩৮), আব্দুল জলিলের ছেলে লাইছ মিয়া (৪০), হেলাল মিয়া (২৮), আবদুল মনাফের ছেলে জামাল মিয়া (৩৮), নিজাম উদ্দিন (৩০), নিস্তার আলীর ছেলে সজিদ আলী (৩৫), হোছন আলী (২৫), ইছবর আলীর ছেলে রহিম আলী(৩৫), মখরম আলীর ছেলে লাল মিয়া(৫০), সানজব আলীর ছেলে গৌছ আলী (৪৫), ইছকন্দর আলীর ছেলে ছায়েদ (২৮), বাবরু মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪৫), করম আলীর ছেলে সুমন মিয়া (২৮), ইছকন্দর আলীর ছেলে জুবের মিয়া (২৫), আসদ আলীর ছেলে মুজিবুর (২৮), ইছবর আলীর ছেলে তজব আলী (৫০), সিরাজুল (৪৮), রশীদ আলীর ছেলে সুজন মিয়া (৩০), ইছকন্দর আলীর ছেলে সাইফুল (২৮), মজুমদার আলীর ছেলে তোয়াজমীর (৫৫), শুকুর আলীর ছেলে রায়হান মিয়া (২৮), আসদ আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (২৬), আরজক আলীর ছেলে সৈয়দ মিয়া (৩৮), আলখাছ আলীর ছেলে সায়েক মিয়া (২০), আহমদ আলীর ছেলে রিমন মিয়া (২০) ও নুরুল মিয়ার ছেলে হাছান মিয়া (১৮)।

অপর দিকে, ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের কাজি বাড়ির পক্ষে আহতরা হলেন- নূর মিয়া (৭০), বারিক উল্লার ছেলে নিজাম উদ্দিন (৪০), জালাল মিয়া, মিহার উদ্দিনের ছেলে আনর আলী (২৫), মিলন মিয়া (৩০), ওয়ারিছ আলীর ছেলে গৌছ উদ্দিন (৫০), হারুন মিয়ার ছেলে রাহীম আলী, দলাই মিয়ার ছেলে রেজবুল মিয়া (২৫), আমির উদ্দিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন (২৫) মিহাদ উদ্দিনের ছেলে রুবেল মিয়া (২০), কাজি আকিল উদ্দিনের ছেলে কাজি ফজলু মিয়া (৪৮), শাহাত মিয়ার ছেলে জুনু মিয়া(২৫), রাজু মিয়া(২০), জুয়েল মিয়া(২২), সমুজ আলীর ছেলে নুরুল হক(৩৮), মৃত আরব আলীর ছেলে ফারিক মিয়া (৩২), আফিজ উদ্দীনের ছেলে কাজী নবী হোসেন(৫৫), আজির উদ্দীন(৩২) পিতা অজ্ঞাত,আছকির আলীর ছেলে খালিক মিয়া(৫৫)। তাৎক্ষণিক অন্যান্য আহতদের নাম জানা যায়নি।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ইটের ভাঙা সুরকি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সংঘর্ষের পরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় অন্তত ৮ জনকে গ্রেফতারের পর পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে গ্রামটি। দুপুরে জুমআর নামাজে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যাও তুলনামূলক কম ছিলো।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কবরস্থানের পাশে ৪.৩৯ একর জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজি গোষ্ঠীর ওদুদ মিয়া ও হাজি গোষ্ঠীর মো. আলীর মাঝে বিরোধ চলছিলো। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে গ্রামের ৬ গোষ্ঠী কাজি বাড়ির পক্ষ হয়ে হাজি বাড়ির সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে৷ এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। একাধিক গুলির শব্দও শুনেছেন অনেকে।

কাজিবাড়ি ও ছয় গোষ্ঠীর পক্ষে মো. নূর মিয়া বলেন, আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। সকলের গায়ে গুলি। আপনারা হাসপাতালে এসে দেখে যান।

হাজি বাড়ির পক্ষে মো. আলী বলেন, আমাদের গ্রামের কবরস্থানের আশেপাশে ক্রয়সূত্রে ৪.৩৯ একর জায়গার মালিক আমরা। গণিপুর গ্রামের গৌছ উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে কেনা জমি এগুলো। ২০০২ সাল থেকে কোনো আপত্তি ছাড়াই আমরা ভোগ দখল করে আসছি। গত দুই বছর যাবত কাজি বাড়ির লোকজন একটি মামলা করে এখানে ১.৩৯ একর জায়গা দাবি করেন। মামলায় আমরা রায় পেয়েছি। এখানে একাধিক মামলা হয়েছে। সব মামলায় আমরা রায় পেয়েছি। একটি মামলা চলমান। ১৪৪ ধারায় তারা মামলা করেছিলো সেটিও আমাদের পক্ষে এসেছে। আজ (শুক্রবার) জায়গা দখল করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। দেশিয় অস্ত্রসহ ৮ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেছি। একপক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে গুলাগুলির অভিযোগ করছেন। আমরা তেমনটি পাইনি। মামলা পক্রিয়াধীন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট