ডোমারে রেললাইনের পেন্ডেল ক্লিপ খুলে পালালো দুর্বৃত্তরা

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৩

ডোমারে রেললাইনের পেন্ডেল ক্লিপ খুলে পালালো দুর্বৃত্তরা

মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী : নীলফামারীর ডোমারে রেললাইনের বেশ কিছু পেন্ডেল ক্লিপ খুলে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় লোহা খোলার শব্দে এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে রেললাইনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এসময় মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় চিলাহাটি-খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাগডোকরা গ্রামের প্রধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ডোমার-চিলাহাটি পথে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবায়দুর রহমান রতন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী মনোরঞ্জন রায়, অমরজিৎ সিংহ জানায়, রাতে ওই এলাকায় রেললাইনের লোহালক্কর খোলার শব্দ শুনতে পেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখে কয়েকজন রেললাইনের ক্লিপ খুলছে। এসময় তারা কয়েকজন জোটবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা আরো জানান, ‘ঘটনার পর চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি আসছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্নভাবে সংকেত দিতে থাকলে ট্রেনটি থেমে যায়। এতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।

সৈয়দপুর পি ডব্লিউ আইর ভারপ্রাপ্ত মেট আশিকুর রহমান জানান, কন্টোল থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।এখানে রেললাইনের কয়েকটি পেন্ডেল ক্লিপ খুলে ফেলা হয়েছে। আমরা সেগুলো দ্রুত লাগিয়ে দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা করি।

বোড়াগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিমুন বলেন, ‘এলাকাবাসীর ধাওয়ায় দুবুত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের ফেলে যাওয়া একটি বস্তা থেকে ৭২ পিস ক্লিপ উদ্ধার হয়। এরপর রেলের লোকজন এসে লাইন মেরামত করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটিথ।
নীলফামারী স্টেশন মাস্টার ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘লাইন মেরামত শেষে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটি সেখান থেকে ছেড়ে যায়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সুলতান মৃধা বলেন, কে বা কাহারা রেললাইনের ক্লিপ খুলে ফেলেছে এমন খবর পেয়ে রাতের মধ্যে শ্রমিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরে রেললাইনের মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম বিপিএএ ও ডোমার সার্কল সহকারী পুলিশ সুপার আলী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট