শোকাবহ জেল হত্যা দিবস আজ

প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৩

শোকাবহ জেল হত্যা দিবস আজ

আজ ৩ নভেম্বর। শোকাবহ জেল হত্যা দিবস। ঘাতকেরা মিশন শুরু করেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ককে হারানোর শোকে জাতি যখন মুহ্যমান, তখনই আবার আঘাত আসে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা বঙ্গবন্ধুর সহচর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে ঘাতক চক্র। সেদিন কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।


 একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান জাতীয় এই চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রতি বছরের মতো আজ শুক্রবারও জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে জাতীয় চার নেতাকে।

জেল হত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেল হত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করে। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অন্য পাঁচ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধা। খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মরহুম তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর ও মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য চার আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়। তবে জাতীয় নেতাদের পরিবারের সদস্যরাসহ বিভিন্ন মহল থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও পুনর্বিচার দাবি করা হয়। এরই মধ্যে জেল হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ—এই চার জন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়।

এই চার নেতাকে হত্যা করা ছিল এক গভীর চক্রান্ত। যে চক্রান্তের মূল লক্ষ্যই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে চিরতরে বিনষ্ট করা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দেশপ্রেমিকের রক্ত কখনো বৃথা যায় না এবং বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা বাংলার জনগণের চিত্তে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। নেতৃদ্বয় কারাগারে নিহত এই চার নেতার দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উদাহরণে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হত্যাকারীদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার কাছে এই চার নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট