২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২২
✓_পুনরায় রক্তক্ষরণ হলেই রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি
✓_হুইল চেয়ারই ভরসা লাগে অন্যের সাহায্য
✓_দলের দুর্বল ভূমিকায় খালেদা অস্তিত্ব সংকটে
✓_মূলধারা থেকেও বিএনপি ছিটকে পড়ছে— অভিযোগ
✓_খালেদা গৃহবন্দি, অঘটনের দায় সরকারের বলে দাবি
হাঁটার সক্ষমতা হারিয়েছেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে হুইল চেয়ারই একমাত্র ভরসা। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারছেন না। এর আগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি হেঁটেই কারাগারে গিয়েছিলেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে— চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার শরীরে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দেশের চিকিৎসায় সম্ভব নয়। অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। মেডিকেল বোর্ড পরিবারকে ঝুঁকির বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
গত বছর নভেম্বরে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। তখন তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮১ দিন টানা চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। সার্বক্ষণিক চিকিকিৎসকদের নজরে থাকতে হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বারবার হাসপাতালে আনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিক, কিডনি, দাঁত, চোখের সমস্যাসহ শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে— খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি ঘটেনি।
৭৬ বছর বয়সি এই রাজনীতিকের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন তার বড় আকারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা খুবই অল্প পরিমাণে। তাদের সবচেয়ে ভয়ের কারণ— আকস্মিক বড় আকারের রক্তক্ষরণ হলে তা সামাল দেয়ার মতো অবস্থা বা প্রযুক্তি দেশে নেই। ফলে চিকিৎসকরা সব সময় একটা শঙ্কার মধ্যে আছেন।
তারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থায় উন্নত সেন্টারে চিকিৎসা হলে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া যেত।
বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য নয়াদেশকে জানান, বেগম খালেদা জিয়ার যখন প্রেশার বেড়ে যায় তখন রক্তক্ষরণের আশঙ্কা তীব্র হয়। নতুন নতুন ওষুধ ও ইনজেকশন দিয়ে তা বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের একাধিক রুটিন টেস্ট করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, যত দ্রুত তাকে বিদেশে চিকিৎসা দেয়া যায় ততই মঙ্গল। তা না হলে ঝুঁকি বাড়বে।
এদিকে খালেদা জিয়ার ইস্যু নিয়ে দলেও ক্ষোভ বাড়ছে। খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম কিছুই করতে পারেনি। বিশেষ মহল থেকে বলা হচ্ছে এ ইস্যুতে বিএনপির আন্দোলন কেবল ভুল পথে পরিচালিত হয়নি, রাজনীতির মূলধারা থেকেও দলটি ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মানুষের সহানুভূতি থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি।
তবে অনেকে এও বলছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই মুহূর্তে যে বড় সংকটে পড়েছে, ১৯৮২ সালের পর কখনোই দলটিকে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। বিএনপি যদি এখন খালেদা জিয়ার ইস্যু নিয়ে ভূমিকা পালন করতে পারে তাহলে জনপ্রিয়তার ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলেও মনে করা হচ্ছে। অন্যথায় খালেদা জিয়া চূড়ান্তভাবেই রাজনীতি ও চিকিৎসায় হেরে যাবেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসক টিমের সদস্য প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নয়াদেশকে বলেন, ম্যাডাম এখনো ক্রিটিকাল পরিস্থিতিতে আছেন। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেয়া হচ্ছে।
ঝুঁকিতে আছেন কি-না জানতে চাইলে ডা. জাহিদ নয়াদেশকে বলেন, ‘তিনি পুরো মাত্রায় ঝুঁকিতে আছেন। আমরা যেটাকে আনপ্রেডিক্টেবল বলি। অর্থাৎ তার অবস্থা কখন খারাপের দিকে যাবে বা যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে বা ভালো হবে এটা কিন্তু আগে থেকে হলফ করে বলার অবস্থা নেই। তিনি ঝুঁকিতে আছেন, এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘৭৬ বছর বয়সি খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, যে মানুষটি আলিয়া মাদ্রাসায় হেঁটে হেঁটে গেছেন সেই মানুষটি আজকে চার বছরের মাথায় গত ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে হুইল চেয়ার বাউন্ড হয়েছে। গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাতে গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তার চিকিৎসক টিমের সদস্যরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ‘মৃত্যুঝুঁকি’তে আছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াদেশকে বলেন, ‘দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিছুটা সুস্থ আছেন। তার সাথে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়মিত কথা বলেছেন, তার ভাই (শামীম ইস্কান্দার) কথা বলছেন। এখন তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এ দেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়, চিকিৎসকরা যেটি বারবার বলেছেন— রক্তক্ষরণ হলে ঝুঁকি রয়েছে। তবে আমরা এটি স্পষ্ট বলতে চাই, খালেদা জিয়া মুক্ত নন, গৃহবন্দি। তিনি যদি মুক্ত থাকতেন তাহলে ইফতারসহ দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D