১০ এপ্রিল : স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষনা দিবস : এবি পাটি

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২২

১০ এপ্রিল : স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষনা দিবস : এবি পাটি

 বিশেষ প্রতিবেদক : মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

২৫শে মার্চ গণহত্যা শুরু হবার পর ’৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ ভারতে গিয়ে মিলিত হন। সেখানে বসে গণপরিষদ গঠন করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রণয়ন করেন। ১০ এপ্রিল প্রণীত এ ঘোষণাপত্র ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) গণপরিষদ সদস্য অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়। এ ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত গণপরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে। মুজিবনগরে গঠিত প্রবাসী সরকারের জন্য এটা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।

গতকাল ( ১০ ই এপ্রিল-) রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণপরিষদ এর দাবির পক্ষে সহমত প্রকাশ করে এবি পাটি । ১০ এপ্রিল স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দিবসের দাবি জানিয়েছেন এবি পাটির নেতৃবৃন্দ । রোববার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিষয়টি তুলে ধরা হলো ।

এ ঘোষণাপত্রে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল- ‘সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি’। কিন্তু, পরবর্তীতে এ মতাদর্শ-নিরপেক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রকে ধর্ম ও বিবিধ মতাদর্শের নামে বিভেদের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যার ফল হিসাবে আমাদের উপর স্বৈরাচার চেপে বসেছে। স্বৈরাচার হটাবার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়বার যতগুলো অনুঘটক ছিল, সেগুলোও বিকল করে রাখা হয়েছে।

যার পরিণতিতে আমরা দেশজুড়ে একটি সামগ্রিক নৈরাজ্য লক্ষ্য করছি। সাম্য ও সামজিক সুবিচার তো নেই, ন্যুনতম মানবিক মর্যাদাও এ রাষ্ট্রের নাগরিকদের নেই। আবার, নাগরিকদের মধ্যকার সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনের কোন সুযোগও বাকি রাখা হয়নি। যে কোন রাজনৈতিক উদ্যোগই বাধা ও সহিংসতার মুখে পড়ছে। উল্টোদিকে, ধর্ম ও মতাদর্শগত দ্বন্ধ উতরে এ তিন মূলনীতির ভিত্তিতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে পাকাপোক্ত অবস্থান নেবার মত তাকত ও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এবি পার্টি এ সঙ্কট মোকাবেলায় ‘রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখায়’ ঘোষণা করেছে- ‘রাষ্ট্র বা দল যদি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামজিক সুবিচারের নীতিকে কর্মপন্থা হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে সেই রাষ্ট্র সকল ধর্ম ও মতের নাগরিকের স্বার্থ সমুন্নত করতে সক্ষম হবে। এভাবেই দল ও রাষ্ট্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ক্রমান্বয়ে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে, যা এবি পার্টির মূল রাজনৈতিক দর্শন।’

এবি পার্টি এ রাজনৈতিক দর্শন ধারন করে; পার্টি বিশ্বাস করে, মতাদর্শিক রাজনীতি নয় বরং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে ঘোষিত এ তিন মূলনীতিকে সামনে রেখেই আগামীতে গণমানুষের রাজনীতি দাঁড়াবে। ধর্ম ও মতাদর্শগত দ্বন্ধ জিইয়ে রেখে চালানো গত ৫১ বছরের বিভিন্ন মাত্রার যুলুমকে রদ করতে হলে জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্র মেরামতের এ তিন মূলনীতিতেই ফিরতে হবে বলে মনে করে এবি পার্টি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট