২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের পিছনে তিনি এখনো ‘অটল’ রয়েছেন। তালিবান আফগানিস্তান দখল নেয়ার পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন।
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্য প্রদত্ত এক টেলিভিশন ভাষণে বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তানে আমেরিকার মিশন কখনোই জাতি গঠনের উদ্দেশ্যে ছিল না। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি যা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে সেই দেশে নিয়ে এসেছে, তা আফগানিস্তানের বাইরেও অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন, আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয় ‘আমাদের আশঙ্কর চেয়েও দ্রুত’ ঘটেছে।
বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তানের সৈন্যরাই যেখানে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না, সেখানে আমেরিকান সৈন্যদের আরও যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার আদেশ দেওয়া ভুল। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের ঘটনাগুলো আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আবারো অনিবার্য প্রমাণ করলো।
সোমবার ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন বাইডেন। আগের দিন, তালেবান যোদ্ধারা আফগান রাজধানী কাবুল দখল করে নিলে, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যান।
বাইডেন ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছেন।
এর আগে, শনিবার বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, আফগান সামরিক বাহিনী নিজের দেশকে রক্ষা করতে না পারলে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এক বছর না পাঁচ বছর তাতে কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। এবং অন্য দেশের গৃহযুদ্ধের মাঝখানে আমেরিকার অবিরাম উপস্থিতি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
আমেরিকান বাহিনী প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের চার প্রেসিডেন্ট এর প্রশাসন জুড়ে বিস্তৃত। বাইডেন এপ্রিল মাসে ঘোষণা করেন, সমস্ত আমেরিকান সৈন্য আগস্টের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে দেশে ফিরে আসবে। একটি ছোট বাহিনী সেখানে মোতায়েন রাখার পেন্টাগনের সুপারিশও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
বাইডেন ওই সময় বলেছিলেন, তিনি পঞ্চম প্রেসিডেন্টের কাঁধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তুলে দেবেন না।
মে মাসের শুরু থেকে আফগানিস্তানে তালিবানের হামলা জোরদার হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো মিত্ররা তাদের শেষ অবশিষ্ট সৈন্যদের সেদেশ থেকে প্রত্যাহার করতে শুরু করে। সাম্প্রতিক তালেবান আক্রমণের ফলে এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তারা একের পর এক আঞ্চলিক দখলদারিত্ব কায়েম করে, যার সব শেষ পরিণতি আফগান সরকারের পতন।
যুক্তরাষ্ট্র কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও, হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করায় সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, “সোমবার সকালে, প্রেসিডেন্টকে তার জাতীয় নিরাপত্তা দল, প্রতিরক্ষা সচিব এবং চেয়ারম্যান মিলি, হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকান নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মী, আফগান স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারী ও তাদের পরিবার এবং অন্যান্য অসহায় আফগানদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চলমান প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন”।
এমনকি বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তান ত্যাগের সিদ্ধান্তের পক্ষে অনড় থাকলেও, দেশটি কত দ্রুত তালিবানের কাছে পরাজিত হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
এনবিসি’র টুডে শোতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান বলেন, এটা নিশ্চিত, যে গতিতে শহরগুলোর পতন হয়েছে, তা আশঙ্কার তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে হয়েছে।
আফগানিস্তানের বিশৃঙ্খলা নিয়ে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বাইডেন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D