২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী আবারও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমান্তে এবার রোহিঙ্গা ছাড়া অন্য জাতিগোষ্ঠীর ঢলও নামতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই বাংলাদেশকে এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এর প্রতিবাদ এবং সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে বলা হয়। বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের পর সীমান্ত থেকে মিয়ানমার সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে বলে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডি ডব্লিউকে জানিয়েছেন বিজিবির মুখপাত্র লে. কর্নেল সাইদুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমন্তে এখন আর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা নাই। তারা সীমান্ত এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তবে রাখাইনের ভেতরে তারা কী করছে সেটা আমরা জানি না। এটা গোয়েন্দারা ভালো বলতে পারবেন।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। সীমান্ত বলতে আমাদের দিক থেকে আমরা যতটুকু দেখতে পাচ্ছি তা স্বাভাবিক।
একাধিক সূত্র বলছে, মিয়ানমারের সৈন্যরা সীমান্ত থেকে সরে গেলেও এক কিলোমিটার দূরেই অবস্থান করছে। রাখাইনে সৈন্য সমাবেশও অব্যাহত আছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ক্লিয়ারেন্স অপারেশন সেখানে এখনো চলছে। মিয়ানমারে ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে এই অপারেশন আরও জোরদার হচ্ছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে এখনো চার হাজারের মতো রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তারা ২০১৭ সালের পর থেকেই সেখানে আছেন। নো-ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তের এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এখন আর নাই। তারা এর বাইরে অবস্থান করছে। আমাদের কাছে যে খবর রয়েছে তাতে তারা অভিযান বন্ধ করেনি। সৈন্য আরও বাড়াচ্ছে।
তার মতে, সেখানে অবস্থানরত আমাদের স্বজনদের কাছ থেকে যে খবর পাচ্ছি তাতে রোহিঙ্গাদের মুভমেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাদের ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে যুদ্ধের ট্যাংক নিয়ে আসা হচ্ছে। আমরা আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে আছি।
এর আগে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, মিয়ানমার আবারও রাখাইনে গণহত্যা শুরু করেছে। সেনা সমাবেশের মধ্যেই সেখানে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে নানা সূত্র থেকে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে সেখানে গণহত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা আছেন তাদের অনেকের স্বজন এখনো রাখাইনে আছেন। তারা তাদের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় টহল এবং নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের জনবল ও নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে। তারা রাখাইনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D