বেড়েই চলছে কিশোর অপরাধ, উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

বেড়েই চলছে কিশোর অপরাধ, উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল

এনামুল হক : কিশোর গ‍্যাং, কিশোর আড্ডা, গলির মুখে মোটর সাইকেল মহড়া, সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া এমনকি খুনোখুনি এসব এখন নিত্ত নৈমত্তিক বিষয়। উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধ নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ অভিভাবক মহলও রয়েছে চরম দুশ্চিন্তায়। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে এ বিষয়ে আইন প্রয়োগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিভাবকদের ভূমিকা।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিনদিন নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে কিশোররা । বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা সহজেই নানা অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে পড়ছে । উচ্চ বিলাসী মানসিকতা, স্মার্ট ফোনের অবাধ ব‍্যবহারের কারনেই এমনটি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের উদাসীনতা, দায়ীত্বহীনতা এর জন্য অনেকটা দায়ী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বুঝে না বুঝে অনেক কোমল মতি কিশোর কিশোরী ইদানীং জড়িয়ে পড়ছে যৌন অপরাধে। ফলে পরিবার ও সমাজে ঘটছে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, সম্মানের ভয়ে অনেক পরিবার অনেক ঘটনা নিজেদের মধ্যে চাপা দিয়ে রাখে। আবার অতি শাসনের ফলে স্বেচ্ছায় ডেম কেয়ার হয়ে যাচ্ছে কিশোর কিশোরীরা । পাশাপাশি ইদানীংকালে অভিভাকদের ব্যস্ততার সুযোগে খারাপ পথে পা বাড়াচ্ছে তারা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর অদূরে পার্ক ও রিসোর্ট গুলো হয়ে উঠছে এখন রিতীমত ডেটিং স্পট । তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহের দোলাচলে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, নগরীর এক শ্রেনীর ধনীর দুলাল বিনোদন পিয়াসী অতি উৎসাহী তরুন-তরুনী প্রেমের জাল ফেলে যৌন অপরাধ বা সেক্স ক্রাইমে জড়িয়ে পড়ছে। এরা নিজের সঙ্গীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত মোবাইল বা ক্যামেরায় ধারন করে শুরু করে প্রতারনা। কখনও টাকা বা একাধিক বার অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর অদুরে অবস্থিত বিনোদন পার্ক সহ বিভিন্ন জায়গায় চলে তরুন তরুনীদের অবাধ প্রেমলীলা।

প্রত‍্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুল কলেজ ফাকি দিয়ে সঙ্গিকে নিয়ে কোথায় গেলে কেউ দেখবেনা, কেউ ডিষ্টার্ব করবে না, কোথায় গেলে পাওয়া যাবে একটু নির্জন জায়গা, এমন স্পটকেই বেছে নিচ্ছে তরুন তরুনীরা। দিনের বেলায় স্কুল-কলেজ ফাকি দিয়ে সঙ্গির সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো আর রাতে নিজ রুমে বসে কম্পিউটারের পর্দায় নীল ছবির দৃশ্য দেখে মোবাইলে সারা রাত কথা বলে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেনা অনেক ছাত্র ছাত্রী। ফলে অকালেই ঝরে পড়ছে অনেক মেধাবী তরুন তরুনী।

এ দিকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, ইদানিং কালে সামাজিক পরিবেশ যেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিশোর কিশোরীদের উঠতি বয়সে বিপথে পা বাড়াচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের হাজারো বছরের লালিত সামাজিক মূল্যবোধ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, এই সমস্যাটি ইদানীং কালে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারন ১৯৭৪ সালের পর ২০১৩ সালের শিশু আইনে শিশুদের যেকোন অপরাধে শাস্তি রোধ করা হয়েছে। এই সুযোগটি কিশোররা কাজে লাগাচ্ছে। তিনি বলেন শাস্তি রোধ করায় অনেকাংশে তারা উৎসাহ পাচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। টাকা আছে বলেই কিশোরদের স্মার্টফোন আর দামি মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এডভোকেট শাহিন বলেন, মোটল সাইকেল বিক্রয়ে আরও কঠোর নীতিমালা করা উচিত পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাইসেকেল ব‍্যবহারে উৎসাহ প্রদান করা প্রয়োজন। যেসব কিশোরদের অভিভাবক নেই তাদের দায়িত্ব সজাজসেবা অধিদপ্তরের নেওয়া উচিত এবং প্রত‍্যেকটি জেলায় একটি করে কিশোর সংশোধনাগার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

কিশোর অপরাধ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র জ‍্যোতির্ময় সরকার সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। এখানে আইন প্রয়োগের চেয়ে ও সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব অভিভাবকদের। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই সন্তানদের মোটর সাইকেল ও স্মার্ট ফোন দিয়ে বিপথগামী হওয়া থেকে অভিভাবকদের ফেরাতে হবে। তিনি বলেন, কিশোর গ‍্যংদের উৎপাত ও অপরাধের বিষয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযান হচ্ছে প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। তবে অবশ্যই এই বিষয়ে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক মূল‍্যবোধই পারে কিশোর অপরাধ প্রবণতা থেকে রক্ষা করতে।



সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট