১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০
সুলতান সুমন :: সিলেট সদর উপজেলার বড়শালা জামে মসজিদের হিসাব নিয়ে দুটি পক্ষ তৈরী হয়েছে। এলাকাবাসী মনোনীত লোককে হিসাব না দিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এলাকার লোকদেরকেই। এনিয়ে মামলা-হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব মামলায় এলাকার লোকদেরকে হয়রানি করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সর্বত্র।
বেশ কিছুদিন আগে এলাকার মনোনীত জাকিরের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুরের একটি মামলা করা হয়। পুলিশ ওই মামলার তদন্তে গেলে এলাকার লোকজন হতবাক হয়ে পড়েন। মামলা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি ফের এলাকার লোকজন বড়শালা জামে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি বতুশার কাছে হিসাব চাইলে এনিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে।
এলাকার লোকজন বলেন- মসজিদ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বতুশার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ী জাকিরের উপর হামলা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয় বতুশা ও তার লোকজনকে। মামলা হয় দ্রুত বিচার আইনে। চার্জশীটের পর বদলা হিসেবে বতুশা তার আপন ভাগ্নি জামাই জোহাকে দিয়ে জাকিরসহ বড়শালা গ্রামের অসহায় আরো তিনজনকে মামলায় জড়ান। বিচারাধীন ওই মামলায় তারা জামিনে রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান- বতুশা মসজিদের স্ব-ঘোষিত সেক্রেটারি হয়ে ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ ও এলাকাবাসীকে হয়রানির অভিযোগে সিলেট জেলা প্রশাসক, এসএমপি কমিশনার, র্যাব-৯ ও বিমানবন্দর থানায় ১টি মামলা, ৫টি জিডি ও ২০টি অভিযোগ দেন স্থানীয়রা। এরপর বতুশা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ জানুয়ারি তার আপন ভাগ্নি জামাই শাহাদাতুজ্জামান জোহার ফিটনেস বিহীন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-০১৩১ জীপ গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা সাজান। তখন জোহা ৯৯৯ ফোন করলে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে কোন সত্যতা পাননি। তবুও জোহা থানায় মামলা করতে যান। পুলিশ আদালতে মামলার পরামর্শ দিলে, জোহা পরদিন আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। এতে জাকির, সাদ ও সামাদকে আসামী করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্বপান এসএমপি’র বিমানবন্দর থানার তৎকালীন এসআই আবু তালেব। ওই কর্মকর্তা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও তিন আসামীর মোবাইল কললিষ্ট সংগ্রহ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিআরটিএ সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-০১৩১ জীপ গাড়ির মালিক এরিকন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। গাড়িটির কাগজ সর্বশেষ আপডেট হয়েছে ২০০৪ সালের ৯ ডিসেম্বর। র্দীঘদিন থেকে রোড পারমিট, টেক্স এবং ফিটনেস’র ফি জমা দেয়া হয়নি। সরকারী ফি জমা না দিয়ে গাড়িটি চলছে। যা সর্ম্পূণ বেআইনি বলে দাবি করেন বিআরটিএ কর্মকর্তারা।
ব্যবসায়ী জাকির আহমদ চৌধুরী জানান- তিনি বতুশা বাহিনীর হামলারপর দ্রুত বিচার আইনে মামলা দাখিল করেন। এরপর বতুশা তার আপন ভাগনি জামাই জোহাকে দিয়ে মিথ্যাভাবে দ্রুত বিচার আইনের মামলা সাজান। তাতে আসামী করা হয় তাকে ও তার মামলার প্রধান দুই সাক্ষীকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিসি ক্যামেরার যে ফুটেজ সংগ্রহ করেন, তা তার কাছেও আছে। দেখা যায়, ঘটনার সময় বতুশার নিজস্ব প্রাইভেট কার শহর থেকে বড়শালার দিকে যাচ্ছে। আর জাকিরের কার শহরের দিকে যাচ্ছে। ওই সময় অথবা এর আগে/পরে মামলায় উল্লেখিত জীপ গাড়ি যাতায়াত করতে বিন্দুমাত্র দেখা যায়নি। অথচ গাড়ি ভাঙচুর দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। যদি তদন্তকারী র্কমর্কতা সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতেন, তাহলে ওই ঘটনাটি সর্ম্পূণ মিথ্যা প্রমাণিত হতো। উল্টো বতুশা এবং তার ভগ্নীপতি ফেঁসে যেত। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা তা করেননি।
জোহা জানান- তিনি সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে রাত্র ৭.৪৫ মিনিটে এয়ারপোর্ট রোডে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন জাকির তার গাড়িতে বসা ছিলেন। আর হামলা করে সাদ ও সামাদ। তাছাড়া ওই জীপ গাড়ির মালিকানা তার নিজের নামেই। আর বতুশা তার দূর সম্পর্কের মামা হন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ব্যাপারে জানতে চাইলে, জোহা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান।
তৎকালীন তদন্তকারী র্কমর্কতা এসআই মো. আবু তালেব জানান- তিনি বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জে কর্মরত আছেন। জোহা ও জাকিরের মামলার তদন্ত বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও, পরে বলেন তিনি সব কিছু আদালতে দাখিল করেছেন।
বিমানবন্দর থানার সহকারী কমিশনার প্রবাস কুমার সিংহ জানান- তিনি জোহার গাড়ি ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তখন সাথে ছিলেন এসআই আবু তালেব। ওই সময় এ ঘটনায় কোন সাক্ষী পাননি। পরে মামলাটি তদন্ত করেন এসআই আবু তালেব।
তথ্য সূত্র দৈনিক সিলেটের দিনকাল ও দৈনিক উত্তরপূর্ব

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D