২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
রাজাকারের তালিকা প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। তালিকায় বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম আসায় তাদের স্বজন ও সহযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেখানে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পান একজন ‘রাজাকার’, থাকেন সরকারি ঘরে!
অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা দিয়ে সংসার চালান, তারা উন্নত চিকিৎসাসেবা পর্যন্ত পান না। আবার কারও কারও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।
কিন্তু কীভাবে রাজাকার আব্দুল জলিল মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তা সবারই অজানা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীর দোসর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের রাজাকার আব্দুল জলিল এখন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৯৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা হন। পরে তাকে সরকারি ঘর দেওয়া হয়। ওই বছর থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান তিনি। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম তুলে ভাতাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
এ দিকে, আব্দুল জলিল স্বীকার করেছেন তিনি রাজাকার। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন উইং কমান্ডার ওসমান গণির হাতে ধরা পড়েন বলেও জানান তিনি। স্বাধীনতার পর রাজাকার থেকে মুক্তিযোদ্ধা সাজলেও ‘বিজয় দিবস’ ও ‘স্বাধীনতা দিবস’ কবে তা জানেন না আব্দুল জলিল।
এখানেই শেষ নয়, রাজাকার আব্দুল জলিল নিজের পরিচয় গোপন করতে মুক্তিযোদ্ধার সব সনদ এবং গেজেট সংগ্রহ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর একটা বড় ছবি বাড়ির দেয়ালে টাঙিয়ে রেখেছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু হোসেন জানান, ১৯৮৭ সালের তালিকা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১০৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে সরকার বদল হলে ‘রাজাকার’ আব্দুল জলিলসহ আরও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন। তারা এখন সরকারি ভাতা পান।
সরকারের কাছে চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, ২০২০ সালে দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। তার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক (ডিসি) নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রাজাকারের ঠাঁই নেই।
তিনি আরও বলেন, যদি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় কোনো রাজাকারের নাম থাকে, তাহলে তার নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D