৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল আতাউর গণি ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার। ইতিহাসের ক্ষণজন্মা এই মহানায়ক ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে বাবার কর্মস্থলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস সিলেটের বর্তমান ওসমানী নগর উপজেলার দয়ামীর গ্রামে। বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীর পিতার নাম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানী ছোট বেলা ‘আতা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯২১ সালে আসামের কটনস স্কুলে। সর্বশেষ আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এম এ ১ম পর্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে বাংলার এই বীর সেনানী ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। কিন্তু তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে তিনি দেরাদুন সাময়িক প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে ইন্ডিয়ান আর্মির ‘কিংস কমিশন’ লাভ করেন। পাক-ভারত বৃটিশ সেনাবাহিনীর তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ মেজর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বার্মা রণাঙ্গনে সেনাবাহিনীর অধিনায়কত্ব লাভ করে তিনি অনন্য নজির স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তানে আসেন এবং ওই সময় তাকে লে: কর্ণেল পদে উন্নীত করা হয়। ১৯৪৮ সালে তিনি কোয়েটা স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্সে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি পিএসসি ডিগ্রী লাভ করে সেনাবাহিনীর তদানীন্তন চীফ অব দি জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল রেহিলেন হার্ট এর সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি খুলনা, যশোর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্টেশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালের ৭ নভেম্বর ব্রিগেডে অস্থায়ী ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত হন। তারপর ওই বছরই তিনি পাকিস্তান রাইফেলস’র কমান্ডার নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালের মে মাসে তিনি মিলিটারী অপারেশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর নিযুক্ত হন এবং কর্ণেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক ইন্টারমিনিস্ট্রারিয়েল কমিটি গঠন করলে ওসমানীকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রতিনিধি ও মুখপাত্র নিযুক্ত করেন। ১৯৬৪ সালে তাঁকে আধুনিক সামরিক ব্যবস্থা ও বৈজ্ঞানিক উন্নতি অনুধাবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। ১৯৬৫ সালে ওসমানীকে পাক-ভারত যুদ্ধে ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারী অপারেশন পদে নিযুক্ত করা হয়। পরে ১৯৬৭ সালে আইয়ূব খান সামরিক বাহিনী থেকে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেন। তিনি বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেন। মূলতঃ জেনারেল এম এ জি ওসমানী ছিলেন বেঙ্গল রেজিমেন্টের স্বপ্নদ্রষ্টা। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ২ থেকে ৬ ব্যাটালিয়নে উন্নীত, সেনাবাহিনীতে বাঙালী নিয়োগ শতকরা দুই ভাগ থেকে দশভাগ বৃদ্ধি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চল চল চল কবিতাকে মার্চ পাস্ট সঙ্গীতের মর্যাদা, বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামরিক বাদ্যযন্ত্রে ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ ইত্যাদি প্রচলন করেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে তিনি এম এন এ নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শতাব্দীর অন্যতম ঘটনা। স্বাধীনতাকামী কোটি কোটি মানুষকে পাকিস্তানী হায়েনা বাহিনীর রক্তাক্ত থাবা থেকে মুক্ত করার এক মহান ব্রত তিনি পালন করেন। বিক্ষিপ্তভাবে যুদ্ধরত মুক্তিবাহিনীকে সমন্বিত করে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেন। ওসমানীর অসামান্য নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বীর বাঙালি স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নেন ওসমানী। ১৯৭৩ সালে তিনি স্বাধীন দেশে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু বাকশাল প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে তিনি আইন সভার সদস্য পদ ত্যাগ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী ১৯৮৪ সালের ১৬ আগস্ট ৬৬ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের এই ক্ষণজন্মা বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সিলেটে বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, তাঁর মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।
বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ : বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণী ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবীরের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বেলা ১১টায় বঙ্গবীর ওসমানী স্মরণীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল (রা:) মাজার প্রাঙ্গণে খতমে কোরআন, বাদ জোহর হজরত শাহজালাল (রা:) মাজার মসজিদে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মিলাদ শরীফ ও দোয়া মাহফিল শেষে কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ। কর্মসূচিতে যথাসময়ে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল।
বঙ্গবীর ওসমানী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ ঃ বঙ্গবীর জেনারেল এম,এ,জি ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ আজ রোববার বাদ আছর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মরহুম ওসমানীর মাজার জিয়ারত এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বঙ্গবীর জে. ওসমানী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইউকে ঃ বঙ্গবীর জেনারেল এম,এ,জি ওসমানী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে বঙ্গবীর ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে আজ রোববার বিকেল ৬টায় পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্স রোডে অবস্থিত হাছন রাজা সেন্টারে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D