জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিবস শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন ‘জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) আজীবন শান্তি, মানবপ্রেম ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। শ্রীকৃষ্ণ তার জীবনাচরণ এবং কর্মের মধ্যদিয়ে মানুষের আরাধনা করেছেন।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ-যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, এই জন্মাষ্টমী উৎসব শ্রীকৃষ্ণের ভক্তগণকে তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে আরো অনুপ্রাণিত করবে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতেও সক্ষম হব।

তিনি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সকল নাগরিকের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিবস শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, জন্মাষ্টমী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মাবতার শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন পরোপকারী, প্রেমিক, রাজনীতিক ও সমাজসংস্কারক। সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন ও হানাহানি দূর করে মানুষে মানুষে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের মূল দর্শন। যেখানেই অন্যায়-অবিচার এ ধরাধামকে গ্রাস করেছে সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন আপন মহিমায়। সনাতন ধর্ম মতে, অধর্ম ও দুর্জনের বিনাশ এবং ধর্ম ও সুজনের রক্ষায় তিনি যুগে যুগে পৃথিবীতে আগমন করেন। অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য শ্রীকৃষ্ণ মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি স্থাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষ্ণের প্রেমিকরূপের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বৃন্দাবন লীলায়, যা বৈষ্ণব সাহিত্যের মূল প্রেরণা। শ্রীকৃষ্ণের ভাব ও দর্শন যুগ যুগ ধরে হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশে সকল ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তাই আমাদের মহান ঐতিহ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্য অব্যাহত রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে। মানবকল্যাণ সব ধর্মের মূল বাণী।

তিনি শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ‘শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী’ উৎসবের সাফল্য কামনা করেন। -বাসস