খালেদার কারাদণ্ড ও রায়-পরবর্তী ঘটনায় নজর রাখছে জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৮

খালেদার কারাদণ্ড ও রায়-পরবর্তী ঘটনায় নজর রাখছে জাতিসংঘ

বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায় এবং রায়-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে দেয়া নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক এ কথা জানান।

ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন একজন সাংবাদিক। সেই সাথে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কোনো বিশেষ দূত পাঠানো হবে কিনা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে বিষয়টিকে উদ্বেগজনক মন্তব্য করে মহাসচিবের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি মাত্রই আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। আমরা উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখছি।’

খালেদা জিয়ার সমর্থকদের ওপর পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের বিষয়ে ফারহান বলেন, ‘সহিংসতা কখনো কাম্য নয়। আমরা সহিংসতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছি। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ঘটনার যথাযথ পর্যবেক্ষণ শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে জাতিসংঘ।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র ফরহান হক বলেন, ‘নির্বাচনের ওপর এ রায়ের কোনও প্রভাব পড়বে কিনা, তা নিয়ে এক্ষুণি কিছু বলতে নারাজ আমরা। আমরা পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখছি। জাতিসংঘের অবস্থান সব দলের অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পক্ষে।’

বৃহস্পতিবার পুরনো ঢাকার বখশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের আদালতে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়।

এর আগে দুপুর ২টা ১৪ মিনিটের দিকে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন বিচারক বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটের দিকে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন তিনি। এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালত চত্বরে পৌঁছান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এরই মধ্যে রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে তার দলের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা। সেখান থেকে আটক করা হয়েছে অনেককে।

এর আগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মগবাজার এলাকায় এলে শত শত নেতাকর্মী সেখানে যুক্ত হন। এ সময় রাস্তার পাশেও অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে সেখানে যুক্ত হন। তারা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিয়ে এগোতে থাকেন।

এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনতিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ফলে দেশবাসীর আগ্রহ অন্যরকম। রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই টানটান উত্তেজনা জনমনে ছড়িয়ে পড়ে। রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির মাঠে রায় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনও।

দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

বিএনপির অভিযোগ এই রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাশকতা ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।