২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮
ছাত্রী নিপীড়ন, শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিচারসহ চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ কর্মঘণ্টার আলটিমেটাম মেনে না নেয়াকে কেন্দ্র করে ঢাবির ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে আন্দোলনকারীরা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে। এতে করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও আন্দোলনকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও মলচত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এতে ৫০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর সাতকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টিএসসি, কলাভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ঘুরে প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আসার চেষ্টা করে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এসময় নিজ অফিসেই ছিলেন।
প্রশাসনিক ভবনের গেট তালাবদ্ধ থাকায় এক পর্যায়ে তা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে ভবনের ভেতরে থাকা পর পর আরও দুইটি গেটও বন্ধ দেখতে পান তারা। সেই দুটি গেটও ভেঙ্গে উপাচার্যের কক্ষের সামনে পৌছে যান তারা।
এসময় তারা উপাচার্য ও প্রক্টররের পদত্যাগের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উপাচার্য ও প্রক্টরকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান একাডেমিক মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ফেলেন। এসময় ভিসির পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
রুমের সামনে করিডোরে আধঘণ্টার বেশি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার পরে সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে তার কার্যালয়ের নিয়ে যান।
পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখার নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে আসার নির্দেশ দিলে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী এসে পুরো প্রশাসনিক ভবন ঘিরে ফেলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হকিস্টিক, লাঠি, রড ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।
মারধোরের মুখে শিক্ষার্থীরা সিনেট ভবন সংলগ্ন গেট ও প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গেট গিয়ে বের হওয়ার সময় বিভিন্ন ফটকের সামনে থাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা দফায় দফায় রড, লাঠি, ইট-পাটকেল, লাথি, কিল, ঘুষি মেরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
নির্মম প্রহারে অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় সাংবাদিকসহ প্রায় ৫০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাসুদ আল মাহাদী, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তুহিন কান্তি দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি, সদস্য সোহাইল আহমেদ শুভ, রবিউল ইসলাম মিম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভা মজুমদার, প্রগতি বর্মন তমাসহ প্রায় আরো অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্রদের হুমকি-ধমকি ও ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন করে আন্দোলন নস্যাৎ করে দেন। এর প্রতিবাদে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা ১৭ জানুয়ারি প্রক্টর কার্যালয়ের ফটক ভেঙে প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করেন। পরদিন অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকে টানা আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্র প্রতিনিধিসহ ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনার তদন্ত করা, অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাদের বহিষ্কার করা ও প্রশাসনের করা মামলা তুলে নেওয়া।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D