রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে : নোমান

প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭

রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে : নোমান

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের যথাযথ সুরক্ষা না দেয়ায় মৃত্যুর পরোক্ষ দায় সরকারকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ত্রিমুখী সমস্যার সম্মুখীন। মায়ানমারে মানবিক বিপর্যয়, ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে লালনের সমস্যা ও এর ফলে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ে প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী। এতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবং নিরাপত্তা পরিষদে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো বক্তব্যই দেয়নি। সে জন্য রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর পরোক্ষ দায়িত্ব এই সরকারকেই বহন করতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য ও সংলাপে বিএনপি প্রথমে আহ্বান জানিয়েছিল উল্লেখ করে দলটির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ এটাকে বিদ্রুপ করে বলেছে, বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা নয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া আসল নয়, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য চেয়েছে বিএনপি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আসুক বা না আসুক বিএনপি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রথমে আওয়ামী লীগ রোহিঙ্গা সমস্যাকে হাল্কা করে দেখেছে। নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছে। এখান বাংলাদেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বাংলাদেশের মানুষের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতা দেখানোর জন্য।

তিনি বলেন, আমরা বলিষ্ঠভাবে বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। পশুকে যে অবস্থায় মানবেতরভাবে রাখা হয়, তার চেয়েও অধম অবস্থায় রোহিঙ্গারা রয়েছে। জাতীয় সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

পদ্মা সেতু নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে নোমান বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে যে বাহাদুরি, বর্তমান নকশায় পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ করা যাবে না। চীন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন নকশা হলে চীন আবার কাজ শুরু করবে। বিদেশি অর্থের সঙ্গে দেশীয় অর্থের ম্যাচ করা, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাইনি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মঈনুল ইসলাম, সাইদুর রহমান প্রমুখ।