প্রধান বিচারপতি অটল অবস্থান নিলে ইতিহাসে বীর হয়ে থাকবেন : রিজভী

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৭

প্রধান বিচারপতি অটল অবস্থান নিলে ইতিহাসে বীর হয়ে থাকবেন : রিজভী

সরকার তাকে কাবু করতে নানাভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে

সরকারের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ না করলে ইতিহাসে বীর হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাকে তারা (সরকার) পরাজিত করার চেষ্টা করছে। আপনি (প্রধান বিচারপতি) এই চাপের মুখেও অটল থাকলে পরেও ইতিহাসে আপনি বীর হবেন। কোনোক্রমেই যখন আপনাকে ন্যূনতম টলাতে পারবে না, আপনি হবেন এদেশে বীরদের আরেকজন বীর। বীরগাঁথাদের মধ্যে আপনারও হবে বীরগাঁথা। আর যদি ওদের চাপের কাছে কোনোভাবে বিন্দুমাত্র সরে যান, তাহলে কিন্তু আপনি মানুষের মধ্যে ইতিহাসে আপনার এখন যে অবস্থানটি সেই অবস্থানটি আর থাকবে না। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছে আপনাকে সেই জায়গা থেকে নতজানু করার জন্য, নানাভাবে চাপ দিয়ে চেষ্টা করে নানাভাবে আপনাকে বিপন্ন করার চেষ্টা করছে। গতকাল সোমবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল। গত ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড আই হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। : কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং নেতা দেশের প্রধান বিচারপতিকে বলেছেন, আপনি বিদেশে চলে গেলেই পারেন। আরো দুই-একজন মন্ত্রীর কথায় আমরা কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ পাচ্ছি। এই সৃজনপ্রেমিক সেক্যুলার রাজনৈতিক দল যে রক্ত ঝরিয়েছে আসলে তারা কিন্তু অন্য জায়গার লোক। খুব সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে তারা নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, গন্ধ ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশি কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দিক থেকে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। এই কারণে নানা ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকির মধ্যে এই সাম্প্রদায়িকতাটা রয়েছে। : রিজভী বলেন, উনি (প্রধান বিচারপতি) বিদেশে যাবেন কেন? এখন কী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বিদেশে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তার বাড়িঘর, জমি-জায়গা আপনারা দখল করবেন? এটাই হচ্ছে আপনাদের অভিপ্রায়, এটাই হচ্ছে আপনাদের প্রচেষ্টা। সেজন্য এখন তাকে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ আপনাদের কাজ হচ্ছে সংখ্যালঘুদের জমি-জায়গা দখল করা, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখল করা- আপনাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এখন সেটাই ফুটে উঠছে। আপনারা তো এদেশে সংখ্যালগুদের জায়গা-জমি, বসত-ভাটি সব দখল করেন, তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেন। এসব খবর জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ জানে। দেশের হিন্দুদের বাড়িঘর, জায়গা-জমি, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের জায়গা-জমি, তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানÑ এগুলো দখল করে আওয়ামী লীগ, অন্য কেউ না। : মানসিকভাবে দুর্বল করতে সরকারপ্রধান বিচারপতিকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনার বিরুদ্ধে নানা হুমকি-ধামকি, আপনার বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে নানা ধরনের অনুসন্ধান, আপনার জমি কয়টা, তিন কাঠা থেকে পাঁচ কাঠা করেছেন কি না। এসব সরকার করাচ্ছে। এটা করাচ্ছে মানসিকভাবে আপনাকে দুর্বল করে দেয়ার জন্য। : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী আলাদাভাবে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কি কথা বলেছেন, আমি জানি না। এইটুকু বুঝা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। হিমালয় পর্বতের চাপ তার ওপর দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই চাপের মধ্যেও মাননীয় প্রধান বিচারপতি আপনি সাধারণ মানুষের বিবেকের যে প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছেন এদেশে দুঃশাসন, ইলেকশন কমিশন, পার্লামেন্ট, করাপশন, গভর্নমেন্ট নিয়ে আপনি যে অবজারভেশন দিয়েছেন- এটা কোটি কোটি মানুষের কন্ঠের উচ্চারিত ধ্বনি, সেটার প্রতিফলন হয়েছে। জনগণ আশা করে, বিশ্বাস করে আপনি চারদিকে এই জুলুম-নির্যাতন-উৎপীড়নের মধ্যেও আপনার দৃঢ়তা এবং সাহস নিয়ে আপনি যেভাবে কাজ করেছেন, আপনি যেভাবে রায়টি দিয়েছেন এবং এখন যেভাবে অটল আছেন- জনগণ সেটিই দেখতে চায়। : তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের এই বক্তব্যকে ‘স্ববিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বাহ বাহ। হাত পুড়ে যাবে তাহলে তো আপনি নিজে নিজের গায়ের আগুন ঠেলে দেয়া উচিত। কারণ আপনি সেই ব্যক্তি যখন দুটি অবজারভেশন দেয়া হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলে, এই এবিএম খায়রুল হক যে অবজারভেশন দিয়েছিলেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে যে বিশেষ কমিটি হয়েছিল, সেই কমিটিতে যারা বক্তব্য রেখেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে তার মধ্যে তোফায়েল আহমেদ সাহেবও ছিলেন। উনি (তোফায়েল আহমেদ) বলেছেন, এটাতে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। কেন? মন্ত্রিত্বের জন্য, ক্ষমতায় থাকার লোভ, হালুয়া-রুটি, মাংসের ঝোল- শুধু এইটুকুর জন্য। গণতন্ত্র, সংসদ, সার্বভৌমত্ব, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতাÑসব জলাঞ্জলি দিলেন। আপনি ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সিপাহশালা বলেন। সবকিছু কী ছিল আওয়ামী লীগের লুটপাটের জন্য, মানুষের ঘর-বাড়ি দখল করার জন্য, গণতন্ত্রকে দখল করার জন্য। নির্বাচন কমিশন, সংসদ থেকে শুরু করে এখন সর্বোচ্চ আদালতকে করায়ত্ত করতে পারছেন না, কবজা করতে পারছেন না বলে ক্ষুব্ধ হয়ে আপনারা বলছেন যে হাত পুড়ে যাবে। : তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ছাত্রদলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।