রাষ্ট্রধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৩:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৭

রাষ্ট্রধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে :  মির্জা ফখরুল

ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাতের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে আখ্যাা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সাথে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সাাতে সমগ্র জাতি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, বুধবার যে ছবি আমরা দেখলাম, এই সরকারের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে, আইনমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন, সভা করেছেন, বৈঠক করেছেন। বিষয়টি এই ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের ওপরে। আজকে এই সাাৎ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে- সেটা নিঃসন্দেহে সমগ্র জাতিকে, সমগ্র মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যেটা হওয়ার কথা নয় নজিরবিহীন। যে রায় হয়ে গেছে, সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়ে দিয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে তারা (সরকার) অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে সাাৎ করেছেন। আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসকাব মিলনায়তনে সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের মন্ত্রী সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক রাতের বেলা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কয়েকদিন আগে বৈঠক করেছেন এবং নৈশভোজ করেছেন। সরকারের মন্ত্রীরা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন, অশ্লীল-অশ্রাব্য কথা বলছেন, তাদের ছোট ছোট পাতি নেতারা প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে যে সমস্ত মন্তব্য করছেন তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় চলতে পারে না। আশঙ্কা করছি যে, নতুন করে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে গণতন্ত্রকে যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকুকে ধ্বংস করে দেয়ার। বিচার বিভাগের মতা হরণ করবার, তার স্বাধীনতাকে হরণ করবার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার আবার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করবার জন্য গণতন্ত্রের সমস্ত স্তম্ভগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে, এটার বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। আজকে শুধু বিএনপি নয়, সমস্ত রাজনৈতিক দল, সমস্ত সংগঠন, ব্যক্তি, সুশীল সমাজ সকলের এগিয়ে আসার উচিত বাংলাদেশকে রা করবার জন্য, তার সংবিধানকে রা করবার জন্য, তার গণতন্ত্রকে রা করবার জন্য। আজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তিকে রুখতে হবে ও গণতন্ত্রকে রা করতে হবে। : মতাসীনরা রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত অভিযোগ করে ভবিষ্যতে তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এই কথা বলতে চাই, আজকে যারা এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করবার ষড়যন্ত্র করছেন, গণতন্ত্রকে ধবংস করবার ষড়যন্ত্র করছেন তাদেরকে ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কারণ আপনারা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন, এটা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ভেতরে পড়ে। আপনারা কথায় কথায় আমাদেরকে রাষ্ট্র বিরোধী মামলা দেন। আরে প্রকাশ্যে তো আপনারা রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করছেন, দেশকে ধ্বংস করছেন, সংবিধানকে ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলছেন। এসব প্রত্যেকটির বিচার আজকে হোক, কালকে হোক জনগণ তা করবে। : আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, কী রাষ্ট্র আপনারা (সরকার) করেছেন যাকে বেতন দেন রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান তিনি প্রকাশ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন। যে অন্যায় তিনি করেছেন, যে সর্ট রায় দিয়েছেন তার বিচারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপরে। সেটাকে ১৬ মাস পরে ওই রায় পরির্বতন করে আরেকটা ভিন্ন রায় দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে আমরা মনে করি, আইনজীবীরা মনে করেন দিস ইজ এ ক্রিমিনাল অফেন্স। এটার জন্য তার (খায়রুল হক) বিচার হওয়া উচিত। : মরহুম সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার দেশের সংকটকালে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রাম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি রাজনীতিতে যোগ্য স্থান করে নিয়েছেন। ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণ অক্ষরে লেখা থাকবে। : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি, এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, সাদিয়া হক, মরহুম সালাম তালুকদারের জামাতা এম হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের স্ত্রী মাহমুদা সালাম তালুকদার, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।