ওসমানীনগরের মঙ্গলচণ্ডী নিশিকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবি

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

ওসমানীনগরের মঙ্গলচণ্ডী নিশিকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবি

শিক্ষক সংকটে ভোগছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলচণ্ডী নিশিকান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। গত এক বছর থেকে অর্ধেক শিক্ষক নিয়ে চলছে পাঠদান। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্রমশ; খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই অচিরেই শিক্ষক সংকট দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুশ শহীদ।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ৮০০ শিক্ষার্থী নিয়ে চলা বিদ্যালয়টিতে গত এক বছর ধরে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়রে অনুমোদিত ২৫ শিক্ষকের স্থলে বর্তমানে রয়েছেন ১৩ জন। তন্মধ্যে প্রধান শিক্ষক ২০ জুলাই এলপিআরে ও সহকারি শিক্ষক আগামি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন। ফলে আরো দুই শিক্ষক কমে থাকবেন ১১ জন। এরইমধ্যে প্রত্যেক শিক্ষককে ৫টি করে ক্লাস নিতে হয়। ফলে শিক্ষকদের ওপরও চাপ তৈরী হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলা এই সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির পড়ালেখার মান দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে পাঠদান, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মান বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। যে কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

বক্তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অন্যান্য সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বদলির মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয়করণের পর বিভিন্ন সময়ে অবসরজনিত কারণে সৃষ্ট চারটি শূন্য শিক্ষক পদেও দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. অবিলম্বে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ।
২. প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার আগেই একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক পদায়ন।
৩. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কারণে সৃষ্ট চারটি শূন্য শিক্ষক পদ দ্রুত পূরণ।

বক্তারা বলেন, এ দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয় বরং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার, শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা। একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, আশাবাদি তারা।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম, জাহেদ আহমেদ, জুনু মিয়া, আনোয়ার হুসেন, আব্দুল রাজ্জাক সুরত, কাজী আজাদ প্রমুখ।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট