শিশু ইরা মনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬

শিশু ইরা মনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ওরফে ইরা মনিকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় মূল অভিযুক্ত একমাত্র আসামি বাবু শেখকে (৪৫) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন।

রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে শিশু ইরা মনির পরিবার।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়া ও বেড়াতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান প্রতিবেশী বাবু শেখ (৪৫)। তাকে সীতাকুণ্ডের ইকো পার্কে এলাকার পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার পর ধারাল চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। ৩ মার্চই অভিযুক্ত বাবু শেখকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গেছে, শিশুটার বাবার সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন আসামি।

তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলার বিচারে মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং গত ৩০ জুন আসামি বাবু শেখ সাফাই সাক্ষ্য দেন।

নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

ঘটনার মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় রায়টি ঘোষণা করা হয়। মাত্র ১০ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত এই রায় প্রদান করেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট