পঞ্চগড়ে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা : বাদাম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৬

পঞ্চগড়ে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা : বাদাম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

পঞ্চগড়ের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে বাদাম চাষ। জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার পতিত ও বালুময় জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বাদাম চাষ করছেন। এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক কৃষিজমিতে, যা বদলে দিচ্ছে হাজারো কৃষকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রোপণ করা বাদাম ইতোমধ্যে অধিকাংশ কৃষক সংগ্রহ করেছেন। তবে বাজারে আরও ভালো দামের আশায়অনেকেই তাদের উৎপাদিত বাদাম ঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

চাষিদের ভাষ্য, ফসল তোলার আগে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় উৎপাদন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিকভাবে এবার ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। পরিমিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাভজনক মূল্য এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক বাদাম চাষে আগ্রহী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত বাদাম স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।বাদাম চাষের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, ফসল সংগ্রহের পর গাছের অবশিষ্টাংশ উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়। এতে পরবর্তী মৌসুমের ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমে আসে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পায়।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, উৎপাদিত বাদামের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পঞ্চগড়ে বাদামভিত্তিক তেল উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলা গেলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটতে পারে। এতে কৃষকদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং আরও শক্তিশালী হবে পঞ্চগড়ের গ্রামীণ অর্থনীতি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট