সুনামগঞ্জে ৪০ বছর ধরে বন্ধ ব্রিটিশ আমলের হাসপাতাল, চালুর দাবি

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬

সুনামগঞ্জে ৪০ বছর ধরে বন্ধ ব্রিটিশ আমলের হাসপাতাল, চালুর দাবি

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি হাসপাতাল দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় হাওরাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার মানুষের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাসপাতালটি এখন জরাজীর্ণ ও অবহেলিত। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা হলে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে সাচনা বাজারে ‘সাচনা থানা ডিসপেনসারি’ নামে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪০ সালে জামালগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠার আগেই এটি এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিল।

তৎকালীন আসাম প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে জামালগঞ্জ ছাড়াও তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুরসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে হাসপাতালটির কার্যক্রম বর্তমান উপজেলা সদরে, অর্থাৎ সুরমা নদীর দক্ষিণপাড়ে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৯৮২ সালে সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় ব্রিটিশ আমলের এই হাসপাতাল। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় অবৈধ দখলমুক্ত করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতাল চত্বরের অনেক অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটির পাশে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার এবং বীর বিক্রম শহীদ সিরাজুল ইসলামের স্মৃতিফলক।

হাসপাতালটি সংস্কার ও পুনরায় চালুর দাবিতে গত বছরের জুলাই মাসে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন সাচনা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম।

তিনি বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন সুরমা নদীর দক্ষিণপাড়ে এবং বাকি তিনটি ইউনিয়ন উত্তরপাড়ে অবস্থিত। উত্তরপাড়ের মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা জরুরি রোগী, প্রসূতি নারী ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেক সময় সময়মতো নদী পারাপার সম্ভব না হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালটি তার কার্যক্রম ও জৌলুস হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছি। দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা প্রয়োজন।’

জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মঈন উদ্দিন আলমগীর বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার সুবিধার্থে পুরোনো এই হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটি আবারও হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।