সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় সাহসী নেত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় সাহসী নেত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু



আসন্ন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সেই আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু–এর নাম। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।



রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বরিশাল জেলার ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে মহিলা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বরিশাল উত্তর জেলা মহিলা দলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল মহানগরের ২নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।



শিক্ষাগত জীবনে ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু বরিশালের সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরে বরিশাল গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস সম্পন্ন করেন। এছাড়া বরিশাল টিটিসি থেকে কম্পিউটার বিষয়ে স্বল্পমেয়াদী ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে আইন বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন।



পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য। তার পিতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বরিশাল জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।



তার মাতা মোসাঃ আফরোজা বেগম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের সাবেক সহকারী ইঞ্জিনিয়ার এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠনের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ২০০৮ সালে তিনি চাকরি থেকে অপসারিত হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন।



পরিবারের অন্য সদস্যরাও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বড় ভাই মেহেদী হাসান সোহেল বর্তমানে বরিশাল মহানগর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট বোন জান্নাতুল নওরিন উর্মি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তার স্বামী মোঃ শামীম শেখ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার শ্বশুর মোঃ অমিয়ার রহমান কালিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং চাঁচুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু সামাজিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বিএনপি মাস্টার ট্রেইনার এবং রাজনৈতিক ফেলোশিপ প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
২০১৮ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত টকশোতে অংশগ্রহণ করে সমসাময়িক রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন। এসব আলোচনার অনেকগুলোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ও ভাইরাল হয়েছে বলে জানা যায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি অটল থাকার কারণে ফাতেমা তুজ জোহরা মিতুকে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল থেকে জানা গেছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। সেই তালিকায় ফাতেমা তুজ জোহরা মিতুর নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট