শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অবরুদ্ধ ভিসি, শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৬

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অবরুদ্ধ ভিসি, শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

Manual4 Ad Code

ভোটের একদিন আগে উচ্চ আদালতের আদেশে আটকে গেছে সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।

এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণের ঘোষণার দাবিতে ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। এতে ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনাও বিরাজ করছে।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রশাসন ভবন-১ এ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তারা মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার জন্য রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

এই সময়ের মধ্যে ঘোষণা না এলে প্রশাসন ভবন-১ এর গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পরে রাত ১১ টায় আবারও উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীরা।

প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে থাকা একাধিক প্রার্থী ও তাদের সমর্থক বলেন, আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে মঙ্গলবারই ভোটগ্রহণ করা হবে এমন ঘোষণার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তখন উপাচার্য হাই কোর্টের আদেশের কথা জানান এবং আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটের আয়োজনের ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা চেম্বার আদালতে আবেদন করেছি। কিন্তু তারা (বিচারপতি) বলেছেন, এটার শুনানি দেবে না। যার কারণে হাই কোর্টের রায়ের উপেক্ষা করে মঙ্গলবার নির্বাচন দেওয়া সম্ভব না।”

উপাচার্য আইনগত বিষয়গুলো জানানোর জন্য আন্দোলনকারীদের সামনেই রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে মোবাইলে ফোন করেন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলও জানান, এখন আর এ বিষয়ে করার কিছু নেই।

বৈঠক শেষে পলাশ বখতিয়ার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আগামীকালকেই (২০ জানুয়ারি) শাকসু হতে হবে। যদি কালকে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা তাদেরকে বৈদ্যুতিক, পানি ও খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেব।

“আমরা ভিসি, প্রো-ভিসিসহ পুরো প্রশাসনকে তালা দিয়েছি। একটা পক্ষ ছাত্রদের পালস বুঝতে অক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বুঝে গেছে কারা নির্বাচন হতে দেয় না। যারা বারবার শাকসু পেছানোর ষড়যন্ত্র করেছে, তাদেরকে আমরা শক্ত হাতে প্রতিহত করব। ২০ তারিখে শাকসু হবে, এটা আদায় করে আমরা মাঠ ছাড়ব।”

Manual2 Ad Code

শাকসু নির্বাচনের ভিপি পদপ্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজনের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে ভোট চার সপ্তাহেরর জন্য স্থগিতের আদেশ দেন হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়। কিন্তু সেখানে এর শুনানি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “চেম্বার আদালতে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে শুনানি চাওয়া হয়। তবে এদিন আর শুনানি করেনি আদালত।”

Manual2 Ad Code

এর ফলে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকে। মঙ্গলবার শাকসুর ভোট হচ্ছে না।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

দুপুরে হাই কোর্টের আদেশ ঘোষণার আগ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনের রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনেও তালা দেওয়া হয়। এতে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

বিক্ষুব্ধদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।

বিকেলে বিক্ষোভের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের দুইপাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে কুমারগাঁও বাসস্যান্ড পর্যন্ত যানজট লেগে থাকতে দেখা গেছে।

Manual2 Ad Code

এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘হাই কোর্ট না শাকসু- শাকসু, শাকসু’, ‘শাকসু হবে কয় তারিখ, ২০ তারিখ, ২০ তারিখ’, ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা, মানি না-মানব না’, ‘হাদি ভাই শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে’, ‘সাস্টিয়ানদের ডিসিশন, কালকে হবে নির্বাচন’, ‘আমাদের ডিসিশন, মানতে হবে প্রশাসন’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

Manual8 Ad Code

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে ফিরে এসে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code