সিলেটের রাজপথে একটি শহীদের ইতিহাস : শহীদ রুহুল আমিন

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

সিলেটের রাজপথে একটি শহীদের ইতিহাস : শহীদ রুহুল আমিন

Manual2 Ad Code

মো. সাহেদ আহমদ : গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) ছিলো মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র, সাবেক সংগ্রামী ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং তৎকালীন সিলেট মহানগরের সাহসী ছাত্রনেতা, মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে যুক্তরাজ্য যুবদলের সিনিয়র সদস্য—আমাদের প্রাণপ্রিয় বড় ভাই নুরুল আমিন নুরুল ভাইয়ের স্নেহের কলিজার টুকরা ছোট ভাই শহীদ রুহুল আমিনের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী।

Manual1 Ad Code

আজ থেকে ২১ বছর আগে, ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি, যখন আমাদের প্রিয় বড় ভাই নুরুল আমিন নুরুল মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে একদল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ভয়াবহভাবে হামলার জন্য ধেয়ে আসে। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে, সেই সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে তাঁর ছোট ভাই রুহুল আমিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

Manual6 Ad Code

একাকী পেয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা শহীদ রুহুল আমিনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। স্ট্যাম্প ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়, যা তাঁকে গুরুতর আহত করে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হওয়ার পর তাঁকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

পরবর্তীতে শহীদ রুহুল আমিনের লাশ গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে উপস্থিত হন। সেখান থেকে লাশ মিছিল সহকারে কোর্ট পয়েন্টের দিকে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় মিছিলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর জেলা নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে কোর্ট পয়েন্টে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শতশত নেতাকর্মী ।

সমাবেশ চলাকালে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। পুলিশের আক্রমণে উপস্থিত অনেকেই আহত হন। সর্বপ্রথম তৎকালীন পুলিশের এসপি নির্মমভাবে আঘাত করেন নুরুল আমিন নুরুল ভাইয়ের মাথায়। এরপর তিনি আর কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও অনেক নেতাকর্মীকেও মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন নেতা গুরুতর আহত নুরুল আমিন নুরুল ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অপরদিকে, সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় শহীদ রুহুল আমিনের ভাইয়ের লাশ লালাবাজারের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রুহুল আমিন ভাইকে স্মরণ করছি। আপনারা সবাই শহীদ রুহুল আমিন ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। আমিন

Manual5 Ad Code


লেখক : মো. সাহেদ আহমদ
আহ্বায়ক, জিয়া মঞ্চ, সিলেট জেলা শাখা ও সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা।

Manual3 Ad Code


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code