২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২৫
সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপারের অনাবিল এলাকায় বংশানুক্রমিক ভিটেবাড়ির জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ করেছেন লনি লাল বৈদ্য ও তাঁর শরীকানগণ।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন—ভূমিটি পৈতৃক মালিকানা থাকা সত্ত্বেও তা ভুলবশত অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং পরে একটি অসাধু চক্র ভুয়া লীজপত্র ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
লনি লাল বৈদ্য জানান, তিনি ও তাঁর শরীকানগণ—রনজিৎ বৈদ্য, বিশ্বজিৎ বৈদ্য, মানিক বৈদ্য, মলিন বৈদ্য ও বাদল বৈদ্য—বংশানুক্রমে এসএ খতিয়ান নং ১৫৭৩, দাগ নং ৭৪১৩/৭৫৮৪, মোট ০.০৭৫০ একর জমির বৈধ মালিক ও দখলদার। পূর্বপুরুষদের ভোগদখল এবং সেটেলমেন্ট জরিপেও জমিটি তাঁদের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল।
কিন্তু ৫ এপ্রিল ২০১২ সালের গেজেটে ভুলবশত এই পৈতৃক ভূমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ঘটনায় তাঁরা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল, সিলেট-এ মামলা নং ২৫৮/২০১২ দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২৫/১১/২০১৪ তারিখে আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেন এবং ০৬/০১/২০১৫ তারিখে ডিক্রী জারি করে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল নং ৪৬/২০১৫-ও নামঞ্জুর হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী জমিটির ১৭১৯৭ নং খতিয়ান তাঁদের নামে বহাল রয়েছে এবং তা বর্তমানে কার্যকর।
লনি লাল বৈদ্য জানান, তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ মাস ধরে ফয়জুল হক (ফজলু)-এর (একশনা) লীজ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়—একটি অসাধু চক্র ফয়জুল হক (ফজলু) নামীয় ব্যক্তির মাধ্যমে দাবি করছে যে তিনি জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে লীজ নিয়ে “ফয়েজ ইঞ্জিনিয়ারিং” নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি এসএ/ডিপি/২২/৭৯-৮০/২০০৮/৫৮, তারিখ: ০৮/০৪/২০০৮ ইং স্মারকের একটি কাগজ দেখিয়ে নিজেদেরকে লীজ গ্রহীতা দাবি করছেন। কিন্তু এই কথিত লীজটি আসলে মৌজা মিউনিসিপ্যালিটির ১৭০৬ নং খতিয়ান ও ৭৫৮৪ নং দাগের ০.০৫ একর জমির—যা বৈদ্য পরিবারে তফসিলভুক্ত পৈতৃক জমির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
লনি লাল বৈদ্য অভিযোগ করেন— “ফয়জুল হক (ফজলু) বিভ্রান্তিকরভাবে আমাদের জমিকে তাঁর লীজকৃত জমি বলে দাবি করছে। শুধু তাই নয়, আমাদের ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে লনি লাল বৈদ্য জেলা প্রশাসকসহ সরকারের কাছে দাবি জানান— ফয়জুল হক (ফজলু) ও ফয়েজ ইঞ্জিনিয়ারিং–এর নামে কথিত ভূঁয়া ও প্রতারণামূলক লীজ (স্মারক নং: এসএ/ভিপি/২২/৭৯-৮০/২০০৮/৫৮) অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করতে হবে। তাঁদের তফসিলভুক্ত পৈতৃক সম্পত্তি ভবিষ্যতে যেন কারো নিকট লীজ বা বরাদ্দ প্রদান না করা হয়—এ বিষয়ে স্থায়ী প্রশাসনিক আদেশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
লনি লাল বৈদ্য বলেন, “আইন, আদালতের রায়, নামজারী রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখল—সবই আমাদের মালিকানা প্রমাণ করে। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং আমাদের পৈতৃক ভূমির সুরক্ষা চাই।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের ধৈর্যসহ বক্তব্য শোনার জন্য ধন্যবাদ জানান। জমির সঠিক মালিকানা রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D