সাঙ্গ হলো গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার গাজাযাত্রা, শেষ জাহাজটিও আটকে দিলো ইসরায়েল

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৫

সাঙ্গ হলো গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার গাজাযাত্রা, শেষ জাহাজটিও আটকে দিলো ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দখলদার ইসরায়েলের নৌ অবরোধ ভেঙে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রায় ৪৫টি জাহাজে করে গাজার দিকে রওনা দিয়েছিলেন ৫০০ অধিকারকর্মী। তবে, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে ঐতিহাসিক এ সমুদ্রযাত্রা মাঝপথেই ভেস্তে দিল ইসরায়েলি নৌবাহিনী। শেষ ভরসা হয়ে টিকে থাকা ‘দ্য ম্যারিনেট’ ইয়টটিও আটক করে ফেলেছে দখলদার বাহিনী। সঙ্গে আটক হয়েছেন ইয়টটিতে থাকা ছয় আরোহী।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে লাইভস্ট্রিমে দেখা যায়, ইসরায়েলি কমান্ডোরা শক্তি প্রয়োগ করে পোল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটিতে উঠে পড়েছে। খবর আল জাজিরার।

জানা গেছে, ম্যারিনেটে ৬ জন ক্রু ছিলেন। এটিই ফ্লোটিলার ৪৫টি জাহাজের বিশাল বহরের শেষ সক্রিয় নৌযান, যা গাজার অবরুদ্ধ জনগণের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল।

ম্যারেনেট আটকের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে ফ্লোটিলার ঐতিহাসিক অভিযানের কার্যত সমাপ্তি ঘটল।

এর আগে, ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, শুক্রবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রায় ২.১৬ নট (প্রায় ঘণ্টায় ৪ কিমি) গতিতে গাজা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল দ্য ম্যারিনেট। গাজা উপকূল থেকে এর দূরত্ব তখন ছিল ৮০ কিলোমিটার।

সে সময় জাহাজটির ক্যাপ্টেন এক ভিডিও বার্তায় জানান, জাহাজে ইঞ্জিনের সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তবে তা সমাধান করা হয়েছে। স্টারলিংকের মাধ্যমে তারা যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন এবং জাহাজের লাইভস্ট্রিমও চালু ছিল।

বুধবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত থেকেই ফ্লোটিলার নৌযানগুলোতে অভিযান চালায় ইসরায়েল। ওইদিনই আটক করা হয় দুই শতাধিক যাত্রীকে। তাদের সবাইকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের কেটজিওট কারাগারে রাখা হয়। আটকদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও আছেন।

আটক হওয়ার আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে গ্রেটা বলেন, ইসরাইলি বাহিনী আমাকে জোরপূর্বক আটক করেছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে ইসরাইলে নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের উদ্যোগ মানবিক, অহিংস ও আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই ছিল। দয়া করে আমার দেশের সরকারকে বলুন যেন তারা আমার এবং অন্যদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, নৌবহরের যাত্রীরা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন এবং বৈধ অবরোধ লঙ্ঘন করছেন। আটকদের ইউরোপে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, তেল আবিবের এমন পদক্ষেপে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলছেন, এই জাহাজভরা ত্রাণে কোনো প্রভাব পড়বে না গাজা উপত্যকাবাসীর ওপর।

প্রায় ৪৫টি জাহাজ নিয়ে গঠিত‌‌ ‌‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহর গত মাসে স্পেন থেকে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও আছেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙাই ছিল এই নৌবহরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি যুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত বুধবার থেকেই ইসরায়েলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলার বহরে থাকা নৌযান আটক করতে শুরু করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত মত মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলার ৪৫টি জাহাজের প্রায় সবগুলোই আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই মানবাধিকার কর্মীরা ইসরায়েলের আরোপিত গাজার সামুদ্রিক অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিলেন।

এদিকে, গাজার উদ্দেশ্যে যাওয়া মানবিক সহায়তাকারী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ আটকের ঘটনা আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে ঢাকা।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

অবিলম্বে ইসরায়েলকে নিঃশর্তভাবে আটক সব মানবিক সহায়তা কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলছে, অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ ও মানবিক অবরোধ তুলে নিতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌবহরটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বৈশ্বিক সংহতির প্রতিনিধিত্ব করে। ইসরায়েলি বাহিনীর উচিত গাজায় বেসামরিক জনগণের জন্য বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই চরম দুর্দশা ও ভোগান্তির সময়ে ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে অবিচল সংহতি বজায় রাখার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট