৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে ভূমির জবর দখল নিতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীকে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ ওঠেছে। এমনকি আদালতে ভুয়া সাক্ষি ও বিক্রেতা দাঁড় করিয়ে প্রবাসীর ক্রয়কৃত ভূমির নামজারি ভাঙ্গিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ উপজেলার ৭নং জালালপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবু বক্করের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭নং জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল মালিক দুলাল এর স্ত্রী হাজেরা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে হাজেরা বেগম বলেন, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর একই গ্রামের নেছার আলীর কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় সাড়ে ১৩ শতক জায়গা কিনেন। ভূমির দলিল গ্রহিতা তার স্বামী আব্দুল মালিক দুলাল ও তার বড় বোনের স্বামী খালেরমুখ নৈখাই গ্রামের মরহুম রইছ মিয়ার ছেলে নুর মিয়া। যার- জেএল নং-এস.এ ১৭৩, খতিয়ান নং-এস.এ ২৯০, বিএস নং-৪৫৩, দাগনং-এস.এ-২১৯৬, বিএস-৩৬৬৯, জমির রকম- আমন, পরিমাণ ১৩.৫০ একর।
২০২১ সালে ওই দাগে ২২ শতকের মধ্যে একই মালিকের কাছ থেকে ৮ শতক জায়গা জালালপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবু বক্কর তার শ্যালক ফেঞ্চুগঞ্জের নাজমুদ্দৌলার নামে ক্রয় করেন। এর স্থলে তাদের ক্রয়কৃত জায়গার ২.১৭ শতক অর্থাৎ ১০.১৭ শতক তার নিয়ন্ত্রনে নেন আবু বক্কর। এই ভূমি অপদখলের চেষ্টায় বাধা দিলে মূলত হয়রানী করা শুরু হয়।
স্থানীয় মুরব্বীরাও এনিয়ে সালিশ বৈঠকে সমাধান করে দিতে ব্যর্থ হন। নেছারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জায়গা বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করান জামায়াত নেতা আবু বক্কর। সাড়ে ১৩ শতক জায়গা বিক্রি করলেও এখন বলছেন, ৫ শতক বিক্রি করেছেন। ২০২০ সাল থেকে এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে বিচার নিয়ে ঘুরেছেন হাজেরা বেগম। কিন্তু সকলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। উপরন্তু মামলা তুলে নিতে তার পায়ে পর্যন্ত পড়েন।
হাজেরা বেগম বলেন, গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বোনের বাড়িতে বিয়েতে যান হাজেরা। এই সুযোগে তার বাঁশের বেড়া তুলে ফেলে পাল্টা থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এনে জামায়াত নেতা উল্টো তাকে হুমকি দিচ্ছেন। জামায়াত নেতা আবু বক্কর ভূমি বিক্রেতা নেছার আলীকেও নিজের বশে নেন। দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সময় একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে প্রাণে হত্যারও অভিযোগ এনে আদালতে ১০৭ ধারায় কারণ দর্শানোর আদেশ সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দরখাস্ত করেন।
লিখিত বক্তব্যে হাজেরা বেগম আরও বলেন, তাদের ক্রয়কৃত ভূমির মধ্যস্থতায় এবং দলিলে সাক্ষি বিক্রেতা নেছার আলীর বড় ছেলে আজির উদ্দিন ও জামাতা আব্দুর রহিম। স্থানীয় মেম্বার আনোয়ার আলীও ছিলেন জায়গা কেনার কথাবার্তায়।
পরবর্তীতে জামায়াত নেতা আবু বক্করের পক্ষে আজির উদ্দিন ও আব্দুর রহিম দলিল আদালতে ভাঙার ঘটনায় সাক্ষি দেয়। আদালত থেকে কেবল সাক্ষিদের নোটিশ করা হয়। ক্রেতাপক্ষ হিসেবে তিনি কোনো নোটিশও পাননি। যোগাযোগি মূলে আদালতকে ভুল বুঝিয়ে জালিয়াতি করে একতরফা দলিল ভাঙানোর রায় নিয়ে নেন জামায়াত নেতা আবু বক্কর।
হাজেরা বেগমের অভিযোগ-নেছার আলী তার মেয়ে সায়িদাকে হাজেরা বেগম সাজিয়ে দলিল ভেঙে বিক্রি দেখান। এরপর প্রতারণাপূর্বক জামায়াত নেতা আবু বক্করের শ্যালক নাজমুদ্দৌলার কাছে বিক্রি দেখান। বিক্রেতা নেছার আলী তার ছেলে ও জামাতাকে দিয়ে মিথ্যা সাক্ষি দিয়ে আদালতে বলিয়েছেন, আমার কাছে নাকি ৫ শতক জায়গা বিক্রি করেছেন। বাকি জায়গা তিনি দখল নিয়েছেন। সেই সঙ্গে জামায়াত নেতা তাকে চাপে ফেলতে সিএমএম ২য় আদালতে দায়েরকৃত মামলায় (নং-৭৮/২০২২) আমার বিরুদ্ধে প্রতারণার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন।
একইভাবে আদালত থেকে তিনি ও ভূমির ওপর মালিক নুর মিয়ার নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। এভাবে মামলার পর মামলা দিয়ে ক্ষান্ত নন জামায়াত নেতা আবু বক্কর। তিনি তাদের এলাকা ছাড়া করতে নানাভাবে লোকজন মারফতে হুমকি দিয়ে নিশ্বেস করার পরিকল্পনা করছেন। আর বিক্রিত জায়গাটি মেয়েকে দিয়ে প্রতারণা করিয়ে লিখিয়ে দিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার আশ্রয় নেন নেছার। এলাকার লোকজন এসব ঘটনা জানলেও মামলায় জড়ানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলেন না।
এছাড়া ক্রয়কৃত ভূমিতে আপত্তি না করতে সালিশগণের সামনে জামায়াত নেতা আবু বক্করকে এক লাখ টাকা দেন নেছার আলী। কিন্তু মামলা তোলার পরিবর্তে উল্টো আমাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিক্রেতা নেছার আলীকে হুমকি দিয়ে কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
স্বামী ও ভগ্নিপতির কায়িক শ্রমে কেনা জায়গার দখল নিতে জামায়াত নেতার অপতৎপরতা রুখতে প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রতারণা করে মেয়েকে প্রবাসীর স্ত্রী বানিয়ে বিক্রিত ভূমি পূণরায় বিক্রি দেখানো নেছার আলী ও নামজারি ভাঙাতে মিথ্যা সাক্ষি দেওয়া তার ছেলে এবং জামাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সর্বমহলের সহযোগীতা চেয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী হাজেরা বেগম।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D