বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন : পুলিশ সদর দফতর

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৫

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন : পুলিশ সদর দফতর

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে প্রচারিত বেশিরভাগ তথ্যই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংঘটিত ২৭টি মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ২২টি ছিল সাধারণ হত্যা মামলা এবং পাঁচটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল পারিবারিক বিরোধ, জমি নিয়ে সংঘাত, আর্থিক লেনদেন, ডাকাতি বা দস্যুতা।

দু’টি ঘটনায় মাদক সংক্রান্ত অর্থনৈতিক বিরোধ, সাতটি ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা এবং তিনটি ঘটনায় আত্মহত্যার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া কয়েকটি ঘটনায় ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু বা দুর্ঘটনাকেই মিথ্যাভাবে সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্যে ১৮ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের হওয়া ২০টি মামলার মধ্যে ১৬টি মামলায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। রাজশাহীতে একটি অভিযোগের তদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি, বরং পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। মাগুরার শ্রীপুরে গণধর্ষণের অভিযোগও তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।

পূজামণ্ডপ ও উপাসনালয় ঘিরে সহিংসতার অভিযোগ ছিল ১২৭টি, যার মধ্যে ৬৬টিতে মামলা এবং ৬১টিতে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে চুরি, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলসংক্রান্ত মোট ৬০টি অভিযোগের মধ্যে ২০টি চুরির ঘটনায় ১৪টি মামলা হয়েছে, এবং ২৪টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৫ জনকে গ্রেফতার ও ১০ জন আত্মসমর্পণ করেছে। একটি চুরি ও দুটি ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

অগ্নিসংযোগের চারটি ঘটনার মধ্যে দুটিতে নাশকতার প্রমাণ মেলেনি। জমি সংক্রান্ত ছয়টি ঘটনার একটিতেও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। খিলক্ষেতের একটি পূজামণ্ডপ রেলওয়ের নির্দেশে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ করা হয়, এবং বগুড়ার শ্মশানঘাটের ভাঙনের পর সেখানে প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’এর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, দেশে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ বা নতুন তথ্য এলে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।