১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৭
খাগড়াছড়ি : চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বমহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিরা কেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক জড়ো হচ্ছে, আর তাদের কাছ থেকে উদ্ধার অস্ত্র-গোলাবারুদই বা কোথা থেকে আসছে? সেই সঙ্গে বড় বড় আগ্নেয়াস্ত্রই বা তারা কিভাবে পাচ্ছে? এসব প্রশ্ন এখন সর্বমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জানা গেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে মাঠে নেমেছে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলছে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি গোপন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাতে জঙ্গিদের এখন অস্ত্র সংগ্রহের বড় উৎস দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। দেশের বাইরে থেকে পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা অস্ত্র হাতবদল হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে জঙ্গিদের কাছে।পাহাড়ে তারা অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে। এমনকি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান মিলছে। এসব কারখানা থেকেও জঙ্গিরা অস্ত্র কিনছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ার কারণে জঙ্গিরা এখন দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে নিরাপদ ভাবছে। সেখানে তারা আস্তানা গাড়ছে।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সহায়তায় পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় সময় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরকের চালান প্রবেশ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা আরো বেড়েছে। এসব সংগঠনের মাধ্যমে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রের চালান আমদানি করে থাকতে পারে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করছে। যা তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
গোয়েন্দারা বলছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ইস্যুটি জঙ্গিরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে তারা এখন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তুলছে। বিশেষ করে নব্য জেএমবি এ বিষয়ে খুবই সক্রিয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরেরসরাই ও সীতাকুণ্ডে নব্য জেএমবির আস্তানার সন্ধান মিলেছে। একটি আস্তানায় অভিযানের সময় শিশুসহ পাঁচ আত্মঘাতী জঙ্গি নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিরা পাহাড়মুখী হলেও আরো বেশ কয়েকটি উপায়ে অস্ত্র সংগ্রহ করছে। তারা আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। ভারতে অবস্থানকারী জঙ্গিদের সহায়তায় এগুলো সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে আসছে। কখনো কখনো বিদেশী জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তা নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে পরিচয় গোপন করে দেশীয় অপরাধী চক্রের কাছ থেকে ছোট অস্ত্র কিনছে জঙ্গিরা।
এছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ভারতে গভীর অরণ্যে গভীর সুড়ঙ্গ পথ নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে সবমিলেই বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে জঙ্গিরা এগুচ্ছে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্যেও এসব তথ্যের কিছুটা মিল খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে র্যা ব ৭-এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যেন অস্ত্র দেশে নিয়ে আসতে না পারে সেজন্য সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি।
বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে জঙ্গি আস্তানার সন্ধানে কাজ করছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। অস্ত্রের সন্ধানে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি। বিভিন্ন সময় একে-২২সহ অনেক অস্ত্র উদ্ধারও করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকাটি খুবই দুর্গম। সন্ত্রাসীরা এর সুযোগ নিয়ে থাকে। তবে আমরা সতর্ক আছি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘এ জাতীয় খবর আমরাও পাই। তবে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আমরা সতর্ক আছি। আমাদের সোর্সের মাধ্যমে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D