সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সংস্কার কাজে মাটি ভরাটে অনিয়ম, দেখার কেউ নেই!

প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২৪

সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সংস্কার কাজে মাটি ভরাটে অনিয়ম, দেখার কেউ নেই!

এম এ মতিন, গোয়াইনঘাটঃ ‘সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক’ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এ সড়ক গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাওঁ, তোয়াকুল, রুস্তুমপুর, বিছনাকান্দি, পশ্চিম জাফলং, গোয়াইনঘাট সদর,লেঙ্গুড়া ও মধ্য জাফলং ইউনিয়নবাসীর একমাত্র চলাচলের রাস্তা।

উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা উপজেলা সদর ও জেলা সদরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক। স্থানীয় এলাকাবাসীর পাশাপাশি এ সড়ক দিয়ে দেশবিদেশী হাজার হাজার ভ্রমন পিয়াসু পর্যটকেরা দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই বেড়াতে আসেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “ডিসিএল এন্ড এমডিএইচ (জেভি)” এর বিরুদ্ধে কাজের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নানা অভিযোগ থাকলেও এবারে প্রকাশ্যে উঠে এসেছে “সড়কের পেট কেটে” রাস্তা ভরাটের অভিযোগ।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায় সড়কের পেট কেটে মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাটের বাস্তব চিত্র।

এসময় নন্দিরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আপ্তাব আলী, নিজাম উদ্দিন, সমাজসেবী আব্দুল হাসিম চৌধুরী বলেন, সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হচ্ছে দশগাওঁ মসজিদের বাজার থেকে সালুটিকর বাজার পর্যন্ত অংশটি। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এ অংশটি প্রতিবছর বন্যার পানিতে অন্তত ১০/১২ বার তলিয়ে যায় এবং এ অংশে পানির স্রোত বেশি থাকে। বর্তমানে দামারী বিল এলাকায় স্কেভেটার দিয়ে রাস্তার পেট কেটে যে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে বৃষ্টি হলেই সেখানে রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবেনা। রাস্তার পেট কাঁটার দৃশ্য দেখে পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর থেকে সালুটিকর বাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
এব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিসিএল এন্ড এমডিএইচ (জেভি) এর স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন রাস্তার পেট কেটে মাটি ভরাটের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে দেখছি।

এ সড়ক সংস্কার কাজে এলজিইডি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমীর শরীফ বলেন রাস্তার পেট কেটে মাটি ভরাট করতে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধ করেছি। কিন্তু উনারা আমাদের কথা না শুনে তাদের মতো কাজ করছে।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পেট কেটে মাটি ভরাট করতে আমরা নিষেধ করেছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রতিবেদক সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জেএম ফারুকের মোবাইলে ফোন করলে তিনি রাগান্বিত হন এবং কোন বক্তব্য দেননি।

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন রাস্তার পেট কেটে মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাটের প্রশ্নই আসেনা। রাস্তা নিরাপদ রেখে মাটি কাঁটার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট