২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭
‘আট বছর কেটে গেল। কেউ আমাদের উত্তর দেয়নি, কেন এই হত্যাকাণ্ড?’ এই প্রশ্ন পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে নিহত মেজর মিজানুর রহমানের ১৭ বছরের কিশোর ছেলে তাহসীন রহমানের। আট বছর আগে নিহত বাবা কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাহসীন বলছিল, ‘একটি মানুষ তো আর এমনি এমনি শহীদ হয় না। এর পেছনে একটা কারণ থাকে। আমার বাবা হত্যার পেছনেও কারণ আছে। কিন্তু আট বছরেও সেই আমরা জানতে পারিনি।’
শনিবার বিডিআর বিদ্রোহের আট বছরে বনানীর সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কবরে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্যরা। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল নারকীয় হত্যাকাণ্ড। সেদিন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।
মিজানুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা শেষে তাহসীন বলেন, ‘তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। ঘটনার দিন বাবার সঙ্গে সকালে নাশতা করেছিলাম। তারপর যে চলে গেলেন আর দেখা পাইনি।’ এসময় তার সাথে ছিল ১১ বছর বয়সী ছোট ভাই ফারদিন রহমান।
বাবা মারা যাওয়ার নয় মাস আগে তাদের মা রেবেকা ফারহানা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাহসীন এখন টাঙ্গাইলে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করছে। আর ছোট ভাই ফারদিন গুলশানে নানা অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে থাকে।
বিদ্রোহে নিহত বড় ভাই লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে এ ঘটনার সমাধান চাই। শহীদদের পরিবারের কান্না জাতিকে যেন আর দেখতে না হয়।’ নেপথ্যের ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।
বিডিআর বিদ্রোহে নিহত কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর বাবা হাবিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে বিচার চাই। কারণ, মানুষের বিচারে হয়তো প্রকৃত অপরাধীর বিচার নাও হতে পারে। যে দোষী, সে হয়তো বের হয়ে যায়।’
আট বছর বয়সী সাদাকাত সাবরি বিন মোমিন এসেছিল মা সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে। বাবার মৃত্যুর ১১ দিন পর তার জন্ম হয়। মা বলেন, ‘একটা তো বিচার হচ্ছে। দ্রুত রায় কার্যকর চাই।’ জানালেন, ছেলে সব সময় বাবাকে খুঁজে বেড়ায়। জন্মের আগে জানতেন না সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে। স্বামী আগে থেকেই কয়েকটি নাম ঠিক করে রেখেছিলেন। ছেলের জন্মের পর সেখান থেকে নাম নিয়ে নাম রাখা হয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ অন্যদের শ্রদ্ধা। ছবি: সাজিদ হোসেনবিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ অন্যদের শ্রদ্ধা। ছবি: সাজিদ হোসেন
নিহত মেজর ইদ্রিস ইকবালের বড় ভাই মেজর ইউসুফ ইকবাল বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে বিচার সম্পন্ন হলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন।
বিডিআর বিদ্রোহে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন বীরবিক্রম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, স্বরাষ্ট্রসচিব কামাল আহমেদ, বিজিবির মহাপরিচালক আবুল হোসেন প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান শ্রদ্ধা জানান।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D