গোলাপগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে স্বামীর নির্যাতন, থানায় মামলা

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৩

গোলাপগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে স্বামীর নির্যাতন, থানায় মামলা

দশ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে তার স্বামীসহ সাঙ্গপাঙ্গরা। একের পর এক নির্যাতন ও হুমকির ফলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী হেনা বেগম। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্বামীকে আসামী করে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন তিনি। মামলা দায়েরের পর তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।

থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, উপজেলার রানাপিংয়ের শেরপুর গ্রামের ললিক মিয়ার সাথে বেশ কয়েক বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হেনা বেগম। বিয়ের পর থেকে স্বামী দুবাইয়ে থাকার সুবাদে তাদের সংসার চলছিল ভালভাবেই। ২০১২ সালের ৫ মে দুবাইয়ে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতে গিয়ে মারা যান তার স্বামীর চাচাতো ভাই রাজু। এরপর পর ক্ষতিপূরণ বাবত ৫৬ লক্ষ টাকা পায় মারা যাওয়া রাজুর পরিবার। রাজুর ৫৪ লক্ষ টাকা তুলতে ৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে দাবি করে দুবাই থেকে স্বামী ছয়ফুল আলম স্ত্রীকে রাজুর পরিবারের কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকা আনতে বলেন। এসময় স্ত্রী শোকাহত এ পরিবারের কাছ থেকে টাকা আনতে পারবেন না বলে জানালে স্ত্রীর ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয় স্বামী ছয়ফুল আলম। ফোনে একের পর এক হুমকির পর তাকে ডিভোর্স দেয়ার হুমকি দেন। এতে তিনি নিরুপায় হয়ে যান।

এরপর স্বামী ছয়ফুল আলম স্ত্রী হেনা বেগমকে তার পিত্রালয় থেকে ১০ লক্ষ টাকা আনতে বলেন। এতে তিনি তার বিধবা মায়ের কাছ থেকে টাকা আনতে পারবেন না বলে জানান। পরে স্বামী বলেন বিয়ের সময় কেন যৌতুক দেয়া হয়নি তাই ১০ লক্ষ টাকা আনতে হবে, নতুবা তালাক দিয়ে দিবো। এরপর ১৫ জুলাই শেরপুরস্থ স্বামীর বাড়ীতে গিয়ে ছয়ফুল আলমের স্ত্রী হেনা বেগমকে ছয়ফুলের পক্ষে মারপিট করে হুসেন আহমদ, হাবিবুর রহমান, তুরন মিয়া ও শাকিল আহমদ। তারা প্রথমে হেনার কাছে গিয়ে বলে তোমার স্বামী ছয়ফুল আলম দুবাইয়ে বড় ব্যবসা করবে তাই তাকে তুমি ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নির্মম নির্যাতন করে হেনা বেগমকে।

ঘটনার পর স্বামী ছয়ফুল আলমকে প্রধান আসামী করে ২১ জুলাই গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা ( নং ১৫) দায়ের করেন। মামলার অপর আসামীরা হলেন হোসেন আহমদ, হাবিবুর রহমান, তুরন মিয়া ও শাকিল আহমদ। মামলা দায়েরের পর স্ত্রী হেনা বেগম চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানিয়েছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট