২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২১
অবৈধভাবে মাদকসহ ভারত থেকে নানা পণ্য দেশে আনতে চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত! অভিযোগ উঠেছে, ইয়াবাসহ অবৈধভাবে কয়লা পাচারের সবকিছুই এখন এই এলাকার কথিত বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী চোরাকারবারি কালামের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই চোরাকারবারি কালাম গংরা প্রতি রাতেই ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়লা পাচার করে নিয়ে আসছে দেশের ভেতরে। একই সাথে দেশের ভেতরে আনা হচ্ছে আরও নানা ধরনের অবৈধ এবং নিষিদ্ধ মালামাল।
এমনকি পাচারকৃত এসব কয়লা ও মাদক কারবার থেকে সোর্স পরিচয়ধারী কালাম নামে-বেনামে চাঁদাও উত্তোলন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে পত্র-পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদও প্রকাশ হলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চোরাকারবারিরা।
এ দিকে, বিজিবির নিয়মিত টহল ও অভিযানে প্রায় সময়ই পাচারকৃত মালামাল জব্দ করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না চোরাচালান। ফলে বেশিরভাগ সময়ই ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে এসব চোরাকারবারি ও কথিত সোর্স পরিচয়ধারীরা। এতে সীমান্তে দিনদিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে চোরাকারবারি ও সোর্স পরিচয়ধারীদের দাপট।
স্থানীয়রা জানায়, সীমান্তের চোরাচালানের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত উপজেলার লালঘাট সীমান্ত। এই সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ভারত থেকে প্রতি রাতেই মো. কালামের নেতৃত্বে কয়েক লক্ষাধিক টাকার চোরাই কয়লা ও বিদেশি মদ পাচার করছে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লালঘাট গ্রামের লাল হোসেনের ছেলে খোকন, একই গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে মানিক মিয়া, মৃত আব্দুল মুতালিব মিয়ার ছেলে শহিদুল্লাহ, কালা ফকিরের ছেলে রমজান, একই এলাকার বাঁশতলা গ্রামের মৃত আব্দুল হেলিম মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়া। তারা প্রতিদিন সকালে অর্ধশতাধিক শ্রমিক দিয়ে ভারত সীমান্তের ভেতর থেকে কয়লা উত্তোলন করে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি কাঁটাতারের বেড়ার ৯৭ পিলারের পাশের জঙ্গলে ভেতরে মজুত করে রাখে। পরে গভীর রাতে ওই চক্রটি কয়লা জঙ্গল থেকে বাইরে এনে সীমান্ত পারাপার করে। এ ছাড়া সংসার হাওরে রাখা স্টিল বডিতে কাঠের নৌকা বোঝাই করে পাটলাই নদী দিয়ে এসব অবৈধ পণ্য কলমাকান্দা-নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকেন।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাকারবারি বলেন, আমরা সুযোগ বুঝে ভারত থেকে কয়লা আনি। এতে বিজিবির কথিত সোর্স ইয়াবা ও মাদক নিয়ন্ত্রণকারী কালামকে টাকা দেই।
তবে কার কথা বলে টাকা নেওয়া হয় এবং কত টাকা নেওয়া হয়- এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘তিনি অনেকের কথা বলেন, আমরা এতো কিছু জানাতে চাই না।
এ বিষয়ে ইয়াবা কালামের সাথে মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকায় কাম-কাজ বন্ধ থাকায় কিছু লেবার পেটের দায়ে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে রাতের আঁধারে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কয়লা পাচার করে দেশে আনে। তবে বর্ডার দিয়ে এখন আর আগের মতো চোরাই পথে মালামাল নামে না, মাঝেমধ্যে নামলেও বিজিবির অজান্তেই নামে।
এ দিকে, কথিত সোর্স পরিচয়ধারীর বিষয়ে চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, তাদের কোনো সোর্স নেই।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক তসলিম এহসান দৈনিক অধিকারকে বলেন, সীমান্তে চোরাচালানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে এর সাথে জড়িতদের হাতেনাতে ধরে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D