৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত সময়োপযোগী আইন, বিধি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা ও ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বর্তমান সরকার সক্ষম।
জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২০ উপলক্ষে সোমবার এক বাণীতে তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশের যেকোন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির ওপর গরুত্বারোপসহ সকল উন্নয়ন কর্মসূচিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১০ মার্চ ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২০’ দেশব্যাপী পালন করা হচ্ছে। ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পূর্ব প্রস্তুতি, টেকসই উন্নয়নে আনবে গতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ দিবস পালনকে তিনি সময়োপযোগী হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে ১৯৭৩ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) গ্রহণ করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে জানমাল রক্ষার জন্য দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, মুজিব কিল্লা। তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫-২০৩০ এর দুর্যোগ সম্পর্কিত ধারণাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ একটি গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ। এ কারণেই বাংলাদেশের অবস্থান দুর্যোগ প্রবণ এলাকায়। সুদূর অতীত থেকেই বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। তাই দুর্যোগের কবল থেকে জানমালের ক্ষতি হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে তাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণ করেছি। দুর্যোগে বিপদ সংকেত প্রচার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিহ্রাস প্রস্তুতি, দ্রুত সাড়াদান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন ইত্যাদি কার্যক্রমে আমাদের সরকার তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে সারাবছর বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কমর্রত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ এবং উপকূলীয় জেলাসমূহের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্য থেকে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক গঠন করার পাশাপাশি ৬২ হাজার প্রশিক্ষিত নগর স্বেচ্ছাসেবক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ও দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা জানতে মোবাইলে ১০৯০ নম্বরে (টোল ফ্রি) আইভিআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত প্রলয়ংকরী বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, বজ্রপাত, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি দুর্যোগ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন।
বাণীতে তিনি আরো বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশে ১০০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ২৫৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ১৯,৯৬৮টি সেতু/কালভার্ট, ৩১৪৬ কি.মি. মাটির রাস্তা এইচবিবিকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্র কেন্দ্র, ৪২৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, ৬৬টি ত্রাণ গুদাম, ২৬৯২ কি.মি. মাটির রাস্তা এইচবিবিকরণ, ৬৪৯১টি সেতু/কালভার্ট এবং ৫৫০টি মুজিব কিল্লা সংস্কার ও নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও অনুসন্ধান সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২০’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচীর সাফল্য কামনা করেন। সূত্র : বাসস

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D