খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুন : ফখরুল

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুন : ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহবার জানিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার দল বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট জাতীয়তাবাদী শক্তি যাতে অংশ নিতে না পারে সে জন্যই আজকে এই চক্রান্ত গুলো করা হচ্ছে। এই চক্রান্ত যদি আমরা প্রতিরোধ করতে না পারি ষড়যন্ত্র যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি, তাহলে আমাদের দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে দেশে গণতন্ত্র, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তাই আর কালবিলম্ব না করে জাতি ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

‘এই অবৈধ অনৈতিক সরকার তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সুদূরপ্রসারী তাদের যে আকাঙ্ক্ষা সেটিকে বাস্তবায়িত করার লক্ষে তারা আজকে মহান নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে দেবার জন্য গভীর চক্রান্ত করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ প্রায় ১২ দিন হতে চলেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন সেই নাজিম উদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত অন্ধকার কারাঘারের প্রকোষ্ঠে বন্দি হয়ে আছেন। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতা স্বার্ভমৌত্বকে রক্ষার জন্য যিনি আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন সেই নেত্রীকে আজ কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে আমরা একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি একটা রাষ্ট্র স্বাধীনতা ধ্বংসকারী শক্তি, তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। এই লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া আমাদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং তার মুক্তির জন্য আমাদের সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে স্বোচ্ছার হতে হবে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই তাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)’র আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, আব্দুল কুদ্দুস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম এ আজিজ, এম আব্দুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে সরকার: ফখরুল
‘২০১৪ সালের মতো ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে সরকার, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন হবে না’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। এমন কতগুলো কথা বলেছেন যার সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন নিয়ে উনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলছেন, নির্বাচন ঠেকে থাকবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এর সঙ্গে উনার অভ্যাস আছে, অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন তারা করেছেন, সেখানে শতকরা ৫% মানুষও ভোট দিতে আসেনি…’।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়াকে নিয়ে তাদের (সরকার) এতো আশঙ্কা কেন? উনি নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না তা নিয়ে এতো ভয় কেন? নির্বাচন না করতে পারলে আপনাদের সুবিধা হয়, আমরা ভালো করেই বুঝি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- বেগম জিয়া নির্বাচন না করলে এদেশে নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা নির্বাচন করতে চায়, তারা আসলে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়। একতরফা নির্বাচন করতে চায়। সেটা এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্যে, একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করবার জন্য আবার একটা একতরফা ও একদলীয় নির্বাচন করার পাঁয়তারা তারা করছেন। সেভাবে একটা নীলনকশা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সেই নীলনকশা অনুযায়ী দেশনেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে একটা সম্পূর্ণ ভুয়া নথি তৈরি করে, তারা আদালতের ঘাড়ে বন্দুক চাপিয়ে দণ্ড দিয়েছেন।’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ‘৭ ধারা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে একটা কথা মানতে হবে- এই দণ্ডটা কারা দিয়েছে? একটি আদালত এই দণ্ড দিয়েছে, সেই আদালত কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে।’

তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে মেজর কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি একটা বিষয় বুঝতে পারি না- বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে কে প্রধান হলো, না হলো উনাদের এতো মাথা ব্যথা কেন?’

খালেদা জিয়ার রায়ের কপি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি আইনগত দিক বলতে পারব না, এটা আইনজীবীরা জানেন। তবে অবশ্যই আপিল করা হবে। আশা করি, এই সপ্তাহে আপিল ফাইল করা হবে।’

এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘তারা চায়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আবারও একটি ষড়যন্ত্রমূলক একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না। আর সে জন্যই নিজেদের একদলীয় শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই মিথ্যা, সাজানো ও জাল-জালিয়াতি করে তৈরি করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের কোনো মানুষ ভোট দিতে যায়নি। আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করেছে। এরপর দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের করায়ত্ত করেছে। দেশের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচারালয়কেও এ সরকার নিজেদের করায়ত্ত করে রেখেছে। প্রধান বিচারপতিকেও অন্যায়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য এবং আসন্ন নির্বাচনে তিনি (খালেদা জিয়া) যদি থাকেন এবং নির্বাচনে তিনি যদি নেতৃত্ব দেন তাহলে তারা (আ.লীগ) কোনভাবেই আর ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে না, এই জন্য।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দুঃখ আমরা রাখবো কোথায়, আমাদের কষ্ট আমরা রাখবো কোথায়। যে নেত্রী গণতন্ত্রের জন্য তার সমস্ত জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য সারা জীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন রাজপথে চারণ কবির মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন সেই নেত্রীকে আজকে এই অনির্বাচিত অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সেই গণতন্ত্রের নেত্রীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করেছে।’

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসুন দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আমরা সোচ্চার হই। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো ইনশাআল্লাহ। আজকে মা-বোনেরা জেগেছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ জানাবো আপনাদের সবাইকে নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। দেশকে উদ্ধার করতে হবে, দেশনেত্রীকে উদ্ধার করতে হবে। কারণ এখন দেশ এবং খালেদা জিয়া এই দুটো যেমন একাকার হয়ে গেছেন তেমনিভাবে গণতন্ত্র এবং খালেদা জিয়াও একাকার হয়ে গেছেন। তাই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে, জনগণের শক্তি দিয়ে।’

ফখরুল বলেন, ‘প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের দায়িত্ব সকল গণতান্ত্রিককামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই যে ফ্যাসিস্ট সরকার যারা আজকে বাংলাদেশের মানুষের বুকে জবরদখল পাথরের মতো চেপে বসে আছে তাদেরকে অপসারণ করতে হবে। দেশে গণতন্ত্রের মুক্ত বাতাস বইতে হবে। একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজকে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক ও শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে তাদের কোন বিচার হচ্ছে না। কারণ সেগুলোর সাথে সরকার জড়িত।